জলাবদ্ধতায় তালায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো চাষ অনিশ্চিত

পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি॥ জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায়। জেলার অভ্যন্তরীণ নদী ও খালগুলো পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা হারিয়েছে। ষাটের দশকের স্লুইসগেট এখন অভিশাপে পরিণত হয়েছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সাতক্ষীরার কয়েক লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে বোরো উৎপাদন নিয়ে হতাশায় পড়েছে হাজার হাজার কৃষক। জলাবদ্ধতার কারণে তালা উপজেলার অনেক নিচু জমিতে বোরোর আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় একাধিক সূত্র। সূত্রমতে, জেলার অধিকাংশ বিলের নিচু জমি পানিতে তলিয়ে আছে। পানি সরানোর জন্য কোথাও কোথাও সেচযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, খাল, বিল ও নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। রবি মৌসুমে ধান, আলু, কপি, পেঁয়াজ, বেগুন, টমেটো, গম, খেশারীসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করি। কিন্তু পানির কারণে এখন তা করতে পারছি না।

স্থানীয় কৃষক রেজাউল ইসলাম, হাবিবুর রহমান ও আবু হোসেন জানান, তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার দক্ষিনে শাকদহ, নগরঘাটা, চোমরখালী, তৈলকুপী সহ ১০ টি বিল এখনও ফসল শূন্য। এসব বিল ও গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ শলিখা ও কামারডাঙ্গী স্লুইস গেট। ওই গেট দিয়ে পানি তো সরছেই না বরং স্লুইসগেটের তল দিয়ে নদীর জোয়ারের পানি উল্টো এলাকায় ঢোকে। এই গেটটির সংস্কার হলে এলাকা বোরো চাষের উপযোগী হবার সম্ভাবনা ছিলো। পাটকেলঘাটার যুগিপুকুরিয়া গ্রামের তকিমউদ্দীন জানান, তালার কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন বিলগুলো এখনো পানির নিচে। ফলে পাটকেলঘাটা, শাকদহা, ইসলামকাটিসহ উপজেলার প্রত্যন্ত নিচু এলাকায় এখন বোরো আবাদ অনিশ্চিত।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে তালায় ১৯হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশি জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছিল। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তবে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। যেমন-বৈরী জলবায়ুর (লবণাক্ততা, বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতা ও অধিক তাপ সহিষ্ণু) সাথে খাপ খাওয়ানোর মতো উচ্চফলনশীল ফসলের নতুন নতুন জাতের উদ্ভাবন ও ব্যবহার এবং এগুলোর চাষাবাদ বাড়াতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। নতুন শস্যপর্যায় ও অভিযোজন কৌশলের ওপর ব্যাপক গবেষণা জোরদার করা হয়েছে। কৃষিতে তথ্য প্রযুক্তি স্যাটেলাইট, মলিকুলার ও বায়োটেকনোলজি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। শস্যবীমা চালু করার কথা ভাবছে সরকার।
এ বিষয়ে তালাউপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা বেগম বলেন, উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরোর আবাদ হতে চলেছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও জেলার চাষিরা বোরোর আবাদ করে রের্কড সৃষ্টি করবে। জলাবদ্ধতা না থাকলে বোরোর আবাদ আরও বৃদ্ধি হতো বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান কৃষকরা অনেক সচেতন তাদের সার্বিক খোঁজ খরব নেওয়া হচ্ছে। তাদের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।

শেয়ার