হতভাগ্য যাত্রীদের খবরের অপেক্ষায় স্বজনরা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ইন্দোনেশিয়ার শ্রীবিজয়া এয়ারের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটির হতভাগ্য আরোহীদের স্বজনরা দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রিয়জনদের খবর পাওয়ার অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ এখনও তাদের প্রিয়জনের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
গত শনিবার শ্রীবিজয়া এয়ারের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট রাজধানী জাকার্তা থেকে ওয়েস্ট কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী পনতিয়ানাক রওয়ানা হওয়ার চার মিনিটের মধ্যে রাডার থেকে হারিয়ে যায়।
পরে জানা যায়, বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে লাকি দ্বীপের কাছে সাগরে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে। উড়োজাহাজটিতে ৬২ জন আরোহী ছিলেন। যাদের বেঁচে থাকার আশা আর নেই বললেই চলে।
উড়োজাহাজটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে ওই এলাকায় সাগরের পানি থেকে মানবদেহের খ-াংশ উদ্ধার হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো থেকে কারও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উড়োজাহাজের যাত্রীরা কারা তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা না গেলেও পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিবিসি কয়েকজনের পরিচয় তুলে ধরেছে।
শ্রীবিজয়া এয়ারের বিধ্বস্ত এসজে১৮২ ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন ৫৪ বছরের আফওয়ান। যাকে তার সহকর্মী, প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা একজন দয়ালু এবং বুদ্ধিমান পাইলট হিসেবে জানতেন।
তার ভাইয়ের ছেলে ফেরজা মাহার্ধিকা বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে বলেন, ‘‘পুরো পরিবার শোকের মধ্যে রয়েছে। আমরা এখনও ভালো কিছুর জন্য প্রার্থনা করে যাচ্ছি।”
ঘটনার দিন তার চাচা বেশ তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন জানিয়ে মাহার্ধিকা আরও বলেন, ‘‘তিনি ওইদিন এমনকী তার শার্ট ইস্ত্রি পর্যন্ত করেননি। অথচ, সাধারণত তিনি খুবই পরিপাটি থাকতেন। তিন সন্তানকে আবারও ছেড়ে যেতে হচ্ছে বলে তিনি তাদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছিলেন।”
ইন্দোনেশিয়ার বিমান বাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ক্যাপ্টেন আফওয়ান। ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানো শুরু করেন।

আফওয়ান একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন এবং প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সবসময় সাহায্য করতেন।
ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ পনতিয়ানাক বিমানবন্দরে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। যাতে ওই নমুনার সঙ্গে সমুদ্র থেকে উদ্ধার মানবদেহের খ-াংশের ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এজন্য ৫১ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সবার পরিবারের সদস্যরা এখনো এসে পৌঁছাননি। তাই এ কাজ শেষ হতে হয়ত আরও দুইদিন লেগে যাবে।

 

শেয়ার