বিজ্ঞানী হত্যা: পশ্চিমাদের নীরবতার কড়া সমালোচনা ইরানের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ তাদের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহকে হত্যায় ইসরায়েলকে দায় দেওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলোর নীরবতা ও তেল আবিবকে সমর্থন দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন।
তিনি উপসাগরের প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বিরোধিতা করতে গিয়ে ইসরায়েলকে সমর্থন না দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।

“কেন পশ্চিমারা ইসরায়েলের সন্ত্রাসী কর্মকা-কে সমর্থন দিচ্ছে? কেন আমাদের পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যাসহ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না তারা?,” বৃহস্পতিবার রোমে আন্তর্জাতিক সম্মেলন মেড ২০২০-এ দেওয়া বক্তব্যে এমনটাই বলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ফাখরিজাদেহকে ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির স্থপতি হিসেবে দেখত পশ্চিমা দেশগুলো। তাকে খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ দায় স্বীকার না করলেও ইরানের কর্মকর্তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধেই আঙুল তুলছেন।

রোমের সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে জারিফ বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরব হবে বলেই প্রত্যাশা তার।

“আমরা প্রতিবেশী, আমরা এই অঞ্চলে একসঙ্গে থাকবো। আমার মনে হয় না তারা (প্রতিবেশী) ইসরায়েলকে তাদের যুদ্ধ এখানে নিয়ে আসতে অনুমতি দেবে,” বলেছেন তিনি।

গত সপ্তাহে ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর রোমেই জারিফ প্রথম আন্তর্জাতিক কোনো মঞ্চে ফাখরিজাদেহ হত্যাকা- নিয়ে মুখ খুললেন।

শীর্ষ এ পরমাণু বিজ্ঞানী খুনের ঘটনা ইরানজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে পরমাণু বোমা তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা না ওঠা পর্যন্ত অস্ত্র পরিদর্শন স্থগিত এবং বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির নানা শর্ত উপেক্ষা করার প্রস্তাব দিয়ে আনা একটি বিল পাসও হয়েছে।

জারিফ বলেছেন, পার্লামেন্টে পাস হওয়া বিলটি শিগগিরই আইনে পরিণত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো শর্ত ছাড়াই পরমাণু চুক্তিতে ফিরে আসে এবং তেহরানের উপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে এ ধরনের আইনের প্রয়োজন পড়বে না।

“যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রথম পদক্ষেপটি নিতে হবে। আমরা চুক্তি থেকে সরে যাইনি, যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছে।

“ইরান সব শর্ত মেনে চলার পথে ফিরে যাবে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলতে হবে। তাদেরকে অবশ্যই তাদের জন্য নির্ধারিত সব শর্ত মেনে চলতে হবে এবং বিশ্বের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক করতে হবে। নতুন শর্ত ও আপত্তিকর দাবি তোলা বন্ধ করতে হবে। আমরা পশ্চিমা দেশগুলোকে আমাদের সদিচ্ছা দেখিয়েছি, এখন তাদের পালা,” বলেছেন জারিফ।

শেয়ার