পুলিশের ভুমিকায় ক্ষুব্ধ জেলে পরিবার শরণখোলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শ্লীলতা হানির মামলা!

এমাদুল হক শামীম (শরনখোলা) বাগেরহাট॥ পারভীন বেগম (৪৫), সুন্দরবন সংলগ্ন উপজেলারধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের হতদরিদ্র জেলে মো. মোস্তফা ফকির (৫৫) এর- স্ত্রী। জীবন- জীবিকার সন্ধানে মোস্তফা ফকির তার মেয়ের জামাই মো. শামীম হাওলাদার (৩২)কে সাথে নিয়েপরিবার পরিজন ফেলে রেখে বছরের অধিকাংশ সময় সুন্দরবনের গহীনে মাছ আহরন করে থাকেন। তাই গভীর জঙ্গলে বসে সংসারের কোন খোঁজ-খবর রাখতে পারেন না শশুর- জামাইয়ের কেউ। মাসের মধ্যে ২/১ বার বাড়ীতে আসলেতবেই কেবল মাত্র খবর জানতে পারেন পরিবারের অন্য স্বজনদের। পারভীন বেগম বলেন, সম্প্রতি তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে প্রতিবেশি আল- আমিন হাওলাদারের স্ত্রী- মোসা. নুপুর বেগম (৩৭) ও তার স্কুল পডুয়া মেয়ে (১৫) সাথে ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে চুলাচুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরের দিন উভয় পরিবারের তিন জন শরনখোলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এ খবর এখনো জঙ্গলে থাকা তার স্বামী সহ মেয়ের জামাই কেউ জানেন না। কিন্তু প্রতিপক্ষ আল- আমিন হাওলাদার জেলে মোস্তফা ফকিরের পরিবারকে জব্দ করতে তার স্কুল পডুয়া মেয়েকে দিয়েকাল্পনিক অভিযোগ তুলে পারভীন বেগম সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ২ ডিসেম্বর শরনখোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া ঘটনার দিন আল-আমিনের স্ত্রী- নুপুর বেগম মোবাইল ফোনে স্থানীয় ১২/১৫ জন বখাটে যুবকদের ডেকে আনেন। এ সময় ওই যুবকরা পারভীন সহ তার বড় মেয়ে জেসমিন আকতার (২৮), ছোট মেয়ে মারুফা আকতার (১৯) এবং ছোট মেয়ের জামাই মো. রুমন খানকে দু-দফা বেধড়ক মারপিট করেন। এতে গুরুতর আহত হওয়ায় তিন মাসের অন্তঃস্বত্তা জেসমিনের গর্ভের সন্তান ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেসমিনকে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর পুর্বেও আল-আমিন তার স্বামীর মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত প্রায় লাখ টাকার জাল কেটে নষ্ট করেন এবং তাদের একটি পালিত ছাগল মেরে ফেলেন। এতে গ্রামবাসী আল- আমিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এদিকে পূর্ব শত্রুতার জের মেটাতে মারা- মারির ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য নিজের মেয়েকে ব্যবহার করে আল- আমিনের স্ত্রী- নুপুর বেগম শ্লীলতা হানির নাটক সাজায়। ভূক্তভোগী পারভীন বলেন, শরনখোলা থানা পুলিশ বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত না করেই আমাদের মতো অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে হতবাক করেছেন। কিন্তু আমরা ওদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দিলেও মামলা গ্রহন করেনি থানা পুলিশ। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. একরাম মৃধার স্ত্রী- সাথী বেগম এবং মো. ইউনুচ হাওলাদারের মেয়ে ইরানী আক্তারসহ অনেকে জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে ঠিক। তবে, শ্লীলতাহানির বিষয়ে আমরা অবগত নই। এছাড়া মারপিটের সময় মামলাটির ২নং আসামী এমাদুল হাওলাদারকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
অপরদিকে, এমাদুল হাওলাদার বলেন, ঘটনাস্থল হতে আমার বাড়ি প্রায় এক কিলোমিটার দুরে। এছাড়া ঘটনার সময় আমি আমড়াগাছিয়া বাজারে ছিলাম। উভয় পরিবারের ঝগড়া- বিবাদ সম্পর্কে আমি কিছু জানিনা। তবে, পারভীন বেগম আমার বড় বোন, তার স্বামী বছরের অধিকাংশ সময় জঙ্গলে থাকার কারনে আমি ওই পরিবারের খোঁজ- খবর রাখি। তাই ষড়যন্ত্র করে আমাকে ঐ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এছাড়া মামলার বাদী আল-আমিন হাওলাদার বলেন, ঘটনার দিন আমি বাড়ীতে ছিলাম না। আমার স্ত্রী ও মেয়েকে লাঞ্চিত করার খবর মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পেরে আমি বাড়ীতে আসি। যেহেতু আমি পরিবারের অভিভাবক তাই মামলার বাদী হয়েছি। তবে, আল-আমিনের স্ত্রী- মোসা. নুপুর বেগম বলেন, ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় আমার মেয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দোকান থেকে চানাচুর কিনে বাসায় ফেরার পথে পুর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা জেলে মো. মোস্তফা ফকিরের ছোট জামাই স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মো. রুমন খান ও তার আপন মামা শশুর এমাদুল হাওলাদার অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য হাত ধরে টানাটানি শুরু করেন। এসময় মেয়ের ডাক-চিৎকার শুনে আমি এগিয়ে আসলে পারভীন বেগম, তার মেয়ে জেসমিন, মারুফা আক্তার, জামাই রুমন খান ও তার মামা শশুর এমাদুল হাওলাদার একজোট হয়ে আমাকে সহ আমার মেয়েকে ব্যাপক মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে আমাদের ডাক চিৎকার শুনে পাড়া প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসলে ওরা পালিয়ে যায়। পরে ওই রাতেই আমি শরনখোলা হাসপাতালে ভর্তি হই এবং বিষয়টি মোবাইলে আমার স্বামীকে জানাই। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শরনখোলা থানায় আমার স্বামী মামলা দায়ের করেন। এদিকে এ বিষয়ে শরনখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, পুলিশের প্রতি জেলে পরিবারের অভিযোগ সঠিক নয়। প্রাথমিক তদন্ত করে মামলা গ্রহন করা হয়েছে। তাছাড়া এই মামলায় বাদী পক্ষ কাউকে ফাঁসিয়ে থাকলে তাও খতিয়ে দেখা হবে।

শেয়ার