চাকরির প্রলোভনে দম্পতিকে ভারতে পাচার যশোরে তিন সহোদরের নামে থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বেশি বেতনে চাকরির প্রলোভনে এক দম্পতিকে ভারতে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। পাচারের পর নারীকে দিয়ে জোর পূর্বক পতিতাবৃত্তি করানোর অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে তিন সহোদরের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় এই মামলা করেন। আসামিরা হলো, সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের মৃত শহীদ বাবুর মেয়ে ময়না বেগম সীমা, নাসরিন ও ছেলে মিঠু।

বাদী যশোর শহরের পুরাতন কসবা আজিজ সিটির বাসিন্দা। বাদী ঢাকা টোব্যাকো কোম্পানিতে চাকরির সুবাধে আসামিদের সাথে পরিচয় এবং সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাদীর অভাবের সংসারে বেশি বেতনে ভারতে স্বামী-স্ত্রী দুইজনকে চাকরির প্রলোভন দেখায় আসামি ময়না বেগম। পুরুষকে ২০ হাজার এবং নারীকে ১৫ হাজার বেতন দেয়া হবে বলে আসামিরা জানায়। ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়ি থেকে ভারতে উদ্দেশ্যে আসামি মিঠু ওই দম্পতিকে তিন বছর বয়সের একটি ছেলেসহ সাথে করে নিয়ে রওনা হয়। সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে সাগর নামে আরেক দালালের বাড়িতে রেখে পরদিন চোরাই পথে তাদের ভারতের ঢালি নামে এক দালালের কাছে হস্তান্তর করে। ঢালি তাদের হায়দ্রাবাদের মোঘলপুরার একটি ভাড়া বাড়িতে রাখে। ৩/৪ দিন পর কাজ খোঁজার জন্য স্বামীকে বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর ওই নারীকে দিয়ে জোরপূর্বক অন্য পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু ওই নারী রাজি না হওয়ায় তাকে মারপিট করা হয়। বিষয়টি নারী তার স্বামীকে জানাইলে স্বামী স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে অবহিত করেন। পুলিশ সেখান থেকে ওই নারীকে উদ্ধারসহ আসামি ময়না বেগমকে আটক করে। পাশাপাশি পুরুষকে থানা পুলিশ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে। সেখান থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন স্বামী। এর আগে ওই নারীকে পুলিশ সেখানকার সেল্টার হোমে রাখে। পরবর্তীতে যশোরের মানবাধিকার সংগঠন রাইটসের মাধ্যমে ওই নারীসহ মোট চারজনকে দেশে ফিরিয়ে আনে। এরপর থানায় এই মামলা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কোন আসামিকে আটক করতে পারেনি।

শেয়ার