‘নৌকা’র কর্মী-সমর্থকদের উপর সশস্ত্র হামলা হচ্ছে নির্বাচন প্রভাবিত করতে তৎপর এমপি রণজিত’: আ’লীগের প্রার্থী সাথী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের উপর সশস্ত্র হামলা চলছে। এমনকি নৌকার প্রচার গাড়ি ভাংচুরের পর পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা করতে চাইলে অভিযোগ আমলেই নেননি থানার ওসি। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের শুন্যপদের নির্বাচন প্রভাবিত করতে তৎপরতা চালাচ্ছেন স্থানীয় এমপি রনজিত রায়। আর তার প্রত্যক্ষ মদদে নির্বাচন কেন্দ্র করে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী দিলু পাটোয়ারী। তবে দিলু পাটোয়ারীর দাবি ভিন্ন। গতকাল দুপুরে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি (নৌকার প্রার্থী সাথী) বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর বাঘারপাড়া উপজেলার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড থেকে তাকে চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে দুঃখজনক হলো নিজ দলের স্থানীয় সংসদ সদস্য রনজিত রায় এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে তার বিরোধিতা করছেন। নানা কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থী দিলু পাটোয়ারীর জন্য ভোট চাইছেন।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাথী আরো অভিযোগ করেন, দ্বীন মোহাম্মদ দিলু পাটোয়ারী বিভিন্ন এলাকা থেকে সশস্ত্র ক্যাডার জড়ো করছেন। নৌকার বিজয় নিশ্চিত জেনে তার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা ও নির্যাতন চালাচ্ছেন। গত ১ ডিসেম্বর দিলুর নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা নৌকা মার্কার প্রচার গাড়ি ভাংচুর চালায়। পরে গাড়িটি পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সৈয়দ আল মামুন সেটি গ্রহণ করেননি। উল্টো আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের অহেতুক হয়রানি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বাঘারপাড়া থানার ওসি তার পরিবারের সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুলকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন। এভাবে মামলা দিয়ে তার কর্মী-সমর্থকদেরও হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি নির্বাচন ঠিকঠাক মতন করিয়ে দেবেন এমন কথা বলে ওসি সৈয়দ আল মামুন তার দেবরের কাছে ১৫ লাখ টাকাও দাবি করেছেন। টাকা না দিলে নির্বাচন ঠিকমতন করতে দেবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন ওসি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে তার সংশয় রয়েছে। এজন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনি বাঘারপাড়া থানার ওসির অপসারণের জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রধান সমন্বয়কারী এসএম আফজাল হোসেন, বাঘারাপাড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিথীকা সরকার, মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহ খন্দকার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক এসএম আলমগীর হাসান রাজীব, বাঘারপাড়ার জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুল।

শেয়ার