একাত্তরের নৃশংসতা ভোলার নয়: প্রধানমন্ত্রী

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাত্তরে পাকিস্তান যে নৃশংসতা বাংলাদেশে চালিয়েছে, তা কখনও ‘ভোলার নয়’; এ ব্যথা ‘চিরদিন থাকবে’।

পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার সৌজন্য সাক্ষাত করতে গণভবনে গেলে প্রধানমন্ত্রী তাকে এ কথা বলেন।

সরকারপ্রধানের দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের চালানো গণহত্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, “১৯৭১ সালের ঘটনা ভোলার নয়; এ ব্যথা চিরদিন থাকবে।”

বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা।

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান।

অবশ্য তার আগেই ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় বাঙালির অবিসংবাদিত এই নেতা বলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
কার্যত সেটাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, যার পথ ধরে কালরাতের পর শুরু হয় বাঙালির প্রতিরোধ পর্ব।

নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর তৎকালীন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির নথি নিয়ে প্রকাশিত ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বইয়ের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, এই বই থেকে সবাই ১৯৪৮-১৯৭১ সময়ের অনেক ‘ঐতিহাসিক সত্য’ জানতে পারে।

বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র উর্দু সংস্করণ যে পাকিস্তানে অন্যতম ‘বেস্ট সেলার’, সে কথা উল্লেখ করে তার মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “অন্যান্য দেশের মত পাকিস্তানেও এটি অধিক পঠিত বই।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দেন হাই কমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী। তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

হাই কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ অভাবনীয় দ্রুততায় যে উন্নয়নের নজির গড়েছে, সেখান থেকে শেখার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান।
দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা চান পাকিস্তানের হাই কমিশনার।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যে নিয়মিত আলোচনায় কোনো বাধা নেই। ইমরান আহমেদ বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ – এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিশ্বাস করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন পাকিস্তানের দূত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দায়িত্ব পালনকালে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার