‘প্রয়োজনে’ সরাসরি টিকা কিনবে সরকার

ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানিতে সায়

সমাজের কথা ডেস্ক॥ রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে করোনাভাইরাসের টিকা কেনার নীতিগত প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এমনিতে অর্থমন্ত্রী এ সভায় সভাপতিত্ব করলেও তিনি দেশের বাইরে থাকায় আইনমন্ত্রী এদিন সভাপতিত্ব করেন। সভায় ভারত থেকে ৫০ হাজার টন সেদ্ধ চাল আমদানিতেও সায় দেয়া হয়েছে।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ মোস্তফা কামাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ভ্যাকসিন কিনতে হবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে, এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।” কত টাকায় টিকা কেনা হচ্ছে জানতে চাইলে আবু সালেহ বলেন, “টাকা পয়সার বিষয়টি ক্রয় সংক্রান্ত প্রস্তাবে এলে আলোচিত হবে।”

দরপত্র ছাড়া কেন টিকা কেনা হচ্ছে জানতে চাইল অতিরিক্ত সচিব বলেন, “একই সময়ে টিকা নিতে হবে। পিপিআর (সরকারি ক্রয় বিধি) অনুযায়ী এক বছরে এককালীন ৫ কোটি টাকার বেশি ক্রয় করতে গেলে বিষয়টি এ কমিটিতে আসে। এককালীন সরবরাহ নিতে হবে বলে ভ্যালুয়েশন বেশি। পিপিআর, ২০০৮ এর ৭৬ (২) বিধি অনুসরণ করে প্রস্তাবটি এ কমিটির বিবেচনার জন্য এসেছিল।”

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা করোনাভাইরাসের যে টিকা তৈরি করছে, তার তিন কোটি ডোজ কিনতে ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে সরকার।

এছাড়া গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস-গ্যাভি বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের জন্য ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, যা আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশের হাতে আসতে পারে বলে সরকার আশা করছে।
করোনাভাইরাসের কার্যকর টিকা পাওয়া গেলে তা যাতে সারা বিশ্বের মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করতে কয়েক মাস ধরে কাজ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভি।

গতবছরের শেষে চীন থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নতুন ধরনের এ করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে ছয় কোটির বেশি মানুষকে আক্রান্ত করেছে, কেড়ে নিয়েছে ১৪ লাখ ২২ হাজার মানুষের প্রাণ। বাংলাদেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে চার লাখ পেরিয়ে গেছে, সাড়ে ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে এ ভাইরাস। কার্যকর কোনো ওষুধ না থাকায় করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য পুরো বিশ্ব এখন টিকার অপেক্ষায় রয়েছে।
সভায় ভারত থেকে ৫০ হাজার টন সেদ্ধ চাল আমদানিতে সায় দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ মোস্তফা কামাল ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫০ হাজার টন নন-বাশমতি সেদ্ধ চাল ক্রয়প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়েছে। এরজন্য সুপারিশকৃত দরদাতা হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের এমএস পিকে এগ্রি লিংক প্রাইভেট লিমিটেড।”
দুই কোটি আট লাখ মার্কিন ডলার বা ১৭৬ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকায় এ চাল কেনা হচ্ছে জানিয়ে আবু সালেহ বলেন, দেশের বন্দর পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজি চালের খরচ পড়বে ৩৫ টাকা ২৭ পয়সা। প্রতি টনে ক্রয়মূল্যে দাঁড়াবে ৪১৬ মার্কিন ডলার।

অতিরিক্ত সচিব জানান, সভায় ২০২০-২১ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে কাতারের মুনতাজ থেকে ৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় ২৫ হাজার টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদনের প্রস্তাবেও সায় দেওয়া হয়।

এছাড়া সভায় সৌদি আরবের মাদিন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৬ লাখ টন ডিএপি সার আমদানির ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ২ হাজার ৯৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় এ সার কেনা হবে।

‘আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলি টানেল সংযোগ সড়ককে ৪-লেনে উন্নীতকরণ (শিকলবাহা-আনোয়ারা সড়ক)’ শীর্ষক প্রকল্পের একটি প্যাকেজে কাজের ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয় সভায়। ২৬৬ কোটি ১৪ লাখ টাকায় এ কাজ করবে ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিডেট, তাহের ব্রাদার্স এবং হাসান টেননো বিল্ডার্স।

‘বিভিন্ন স্থানে পুলিশের জন্য ৯টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় একটি কাজের ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয় সভায়। ৬৪ কোটি ১২ লাখ টাকায় এ কাজ করবে দেশ উন্নয়ন লিমিটেড এবং এম এস হক এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একটি প্যাকেজের আওতায় ৫টি লটে ৫৪ দশমিক ৫০ মিলিয়ন সাইকেল খাবার বড়ি (তৃতীয় প্রজন্ম) সংগ্রহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ২৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকায় টেকনো ড্রাগ ও রেনেটা লিমিটেড এ বড়ি সরবরাহ করবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘রাবনাবাদ চ্যানেলের (ইনার ও আউটার চ্যানেল) জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের (ইনার ও আউটার চ্যানেল) জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং কাজের ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয় সভায়। ৪০৮ কোট ৮৭ লাখ টাকায় বেলজিয়ামের জেনডিলুন এ কাজ করবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, ময়মনসিংহ জোন’ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজের একটি লটে টার্নকি-ভিত্তিতে ৩টি নতুন সাবস্টেশন স্থাপন, ৬টি সাবস্টেশনের মানোন্নয়ন ও ৩টি বে সম্প্রসারণ কাজের ক্রয়প্রস্তাব। ৭০ কোটি ৫২ লাখ টাকায় এ কাজ করবে এনার্জি প্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপ লাইন’ শীর্ষক প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইএলএফ ডিটেইল ডিজাইন রিভিউ কাজ, চুক্তি বহির্ভূত নতুন কাজ এবং অতিরিক্ত ১২ মাসের জন্য প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও কন্ট্রাক্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকায় জার্মানির আইএলএফ কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার্স এ কাজ করবে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব।

একই আইনের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপ লাইন’ শীর্ষক প্রকল্পের কুতুবদিয়া ও মাতারবাড়ি এ্যাপ্রোচ চ্যানেল অংশে ডিপ পোস্ট-ট্রেসিং পদ্ধতিতে পাইপলাইন স্থাপনের ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ৪৭২ কোটি ৪২ লাখ টাকায় চায়না পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।

কক্সবাজার জেলার মহেশখালির মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ সম্ভবনা যাচাই থেকে টার্মিনাল ডেভলপমেন্ট সেকশন রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) মূল্যায়ন পর্যন্ত সকল কাজ সম্পাদনের জন্য সুপারিশকৃত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জাপানের টিজিইএস এবং নিপ্প কই এর সাথে নেগোসিয়েটেড দরের চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এ জন্য ৪৩ কোটি টাকা ব্যায় হবে।

অতিরিক্ত সচিব জানান, ডিসেম্বর ২০২০ সময়ে অতিরিক্ত ৪০ হাজার টন মোগ্যাস (অকটেন ৯৫ জঙঘ) আমদানির ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ১২৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় সিঙ্গাপুরের এরিরেটস ন্যাশনাল ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড।

শেয়ার