দাম্পত্য সম্পর্কের ভিডিও ফেসবুকে দিল ডুমুরিয়ার এক কোয়াক ডাক্তার

বিচ্ছেদের পর ১০ লক্ষ টাকা না পাওয়ার জের

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পাইলস রোগের চিকিৎসা নিতে গিয়ে জিৎ হোসেন ওরফে অভিজিৎ দেওয়ান নামের কোয়াক ডাক্তারের সাথে এক তরুণীর প্রেম হয়! অতপর বিয়ে! যদিও সনাতন ধর্মীয় ওই কোয়াক ডাক্তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কটি গোপনে ভিডিও ধারণ করেন কোয়াক ডাক্তার। পরে তাদের বিচ্ছেদ হলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। না পেয়ে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেন। এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে গতকাল বুধবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদক দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত অভিজিৎ দেওয়ান খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর দেওয়ানপাড়ার নলিনী দেওয়ানের ছেলে।

মামলা সূত্র মতে, ওই তরুণী খুলনার শিরোমণি এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি যশোর শহরের পুলিশ লাইন কদমতলা এলাকায় বসবাস করেন। তিনি পাইলস রোগে আক্রান্ত হন। অভিজিৎ পেশায় একজন কোয়াক ডাক্তার। তিনি পাইলস রোগের চিকিৎসা করেন। ওই তরুণী অভিজিতের কাছে চিকিৎসার জন্য যান। এরই মধ্যে দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিজিৎ তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তরুণী মুসলমান এবং অভিজিৎ সনাতন ধর্মীয় হওয়ায় প্রথমে বিয়েতে রাজি হননি। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর অভিজিৎ কালেমা পড়ে এবং নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে অঙ্গীকারনামা দিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ওইদিন কাজী দ্বারা ইসলামী শরিয়ত মতে তাদের দুইজনের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে সংসার করাকালে স্বামী-স্ত্রীর একান্ত সময় অভিজিৎ গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তরুণীকে গালিগালাজ করে পূর্বের সনাতন ধর্মে ফিরে যাবে বলে হুমকি দিয়ে অভিজিৎ চলে যায়। এরপর আর অভিজিৎ স্ত্রীর কাছে ফিরে আসেনি বরং বিভিন্ন সময় জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এরপর তরুণীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন অভিজিৎ। আর টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে ভাইরাল করেছে। বর্তমানে লোক লজ্জার ভয়ে তরুণী বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। আর ওই ভিডিও গত ৫ অক্টোবর মেসেঞ্জারে তরুণীর কাছে পাঠিয়ে দেন অভিজিৎ। এছাড়া কয়েকটি ফেক আইডি খুলেও অভিজিৎ ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় গতকাল বুধবার পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আদালতে মামলা করা হলে বিচরক তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

শেয়ার