জর্জিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তা ট্রাম্প সহিংসতা উস্কে দিচ্ছেন

সমাজের কথা ডেস্ক॥ নির্বাচনে জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচন কর্মী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জর্জিয়া রাজ্যের এক নির্বাচনী কর্মকর্তা।

জর্জিয়ায় নতুন ভোট পদ্ধতির বাস্তবায়ন তদারককারী রিপাবলিকান কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েল স্টার্লিং মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেছেন, সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের কিছু সমর্থকের কাছ থেকে নির্বাচন কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ কর্মকর্তারা এমনকী তাদের পরিবারও সহিংসতার হুমকি পেয়েছে।

ট্রাম্প গত ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি এবং অনিয়মের যে অভিযোগ করেছেন, তার সমর্থকরা সে কথাতেই অটল রয়েছে।

ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে স্টার্লিং বলেন, ট্রাম্প তার সমর্থকদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে সহিংসতা হতে পারে। কেউ আহত হতে পারে, গুলিবিদ্ধ হতে পারে, মরতেও পারে; সেটি ঠিক নয়।

এমন কিছু হলে তার দায় ট্রাম্পকেই নিতে হবে উল্লেখ করে স্টার্লিং বলেন, “পরিস্থিতি অনেক দূর গড়িয়েছে। এটা এখন থামতে হবে। আপনি আপনার সমর্থকদেরকে সহিংসতা থেকে দূরে থাকা, কাউকে ভয়ভীতি না দেখাতে বলুন। তাদেরকে বলুন এটি ঠিক নয়, এগুলো অ-মার্কিনি সুলভ আচরণ।”

জর্জিয়ায় ট্রাম্প শিবিরের অনুরোধে দ্বিতীয় দফায় ভোট পুনর্গণনা করা হচ্ছে। এ রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের মুখপাত্র টিম মুর্তোফ বলেছেন, সব বৈধ ভোট গণনা করা এবং অবৈধ ভোট গণনা না করার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তারা। তিনি বলেন, হুমকি বা সহিংসতায় কারও জড়িত হওয়া উচিত নয়। তেমনটি হলে তারা পুরোপুরি এর নিন্দা জানান।

কিন্তু এ পর্যন্ত অনেকেই নানা হুমকি পেয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিংবা সিনেটররা কেউ এর নিন্দা জানাননি বলে অভিযোগ করেছেন জর্জিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েল স্টার্লিং। এর জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট এবং রিপাবলিকানদেরকে ভর্ৎসনাও করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সংবাদ সম্মেলনে স্ট্রালিং জানান, রাজ্যের ২০ বছর বয়সী এক ভোট গণনা কর্মী ও ঠিকাদার হত্যার হুমকি পেয়েছেন। তার পরিবার হয়রানির শিকার হচ্ছে।

স্টার্লিং এমনকী নিজ বাড়ির বাইরেও পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট ব্র্যাড রাফেনস্পারজারের স্ত্রী তার মোবাইল ফোনে ‘যৌন হয়রানিমূলক হুমকি পাচ্ছেন’।

জর্জিয়ায় হারের পর ব্র্যাড রাফেনস্পারজারকে অনবরত আক্রমণ করে কথা বলে এসেছেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ট্রাম্প তাকে ‘জনগণের শত্রু’ও বলেছেন। এরপরই ব্র্যাড হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা সম্প্রতি জানিয়েছেন ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাকে।

স্টার্লিং বলেন, “মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি এ সমস্ত কর্মকা- বা যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তারা নিন্দা জানাননি। রিপাবলিকান সিনেটররাও এসবের নিন্দা জানাননি।”

সরাসরি ট্রাম্পের নাম করে তিনি বলেন, তার আদালতে যাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু মানুষকে সহিংসতায় প্ররোচিত করার এখতিয়ার নেই। প্রাণনাশের হুমকি, শারিরীকভাবে হেনস্থা করার হুমকি, ভয়ভীতি দেখানো অত্যন্ত বাড়াবাড়ি। এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার।

নির্বাচন শেষের পর সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকা- নিয়ে জর্জিয়ার কোনও রিপাবলিকান কর্মর্কর্তার এটিই সবচেয়ে সরাসরি প্রকাশ্য সমালোচনা বলে মনে করা হচ্ছে।

শেয়ার