কোভিড-১৯: ফাইজারের টিকা অনুমোদন পেল যুক্তরাজ্যে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছে।

আগামী সপ্তাহ থেকেই টিকাটি পাওয়া বলেও বুধবার জানিয়েছে তারা।

যুক্তরাজ্য সরকারের এক বিবৃতিতে এসব জানানো হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

“ফাইজার-বায়োএনটেকের কোভিড-১৯ টিকা প্রয়োগে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সির (এমএইচআরএ) অনুমোদন সম্বলিত সুপারিশ সরকার আজ গ্রহণ করেছে,” বুধবার এমনটাই বলেছে বরিস জনসনের সরকার।

“টিকা আগামী সপ্তাহ থেকে যুক্তরাজ্যজুড়ে পাওয়া যাবে,” বলেছে তারা।

আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানককও।

“খুবই চমৎকার সংবাদ,” টিকার অনুমোদন নিয়ে এমনটাই বলেছেন তিনি।

যুক্তরাজ্য টিকাটির ৪ কোটি ডোজের ক্রয়াদেশ দিয়েছিল, যা দিয়ে সহজেই দুই কোটি মানুষকে দুটি করে ডোজ দেওয়া যাবে।

এর মধ্যে এক কোটি ডোজ শিগগিরই দেশটিতে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে বিবিসি। প্রথম দফায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই টিকাটির প্রথম ৮ লাখ ডোজ মিলবে।

ধারণা থেকে বাস্তবে রূপ নিতে মাত্র ১০ মাস সময় লাগায় ফাইজার-বায়োএনটেকের এ প্রতিষেধকটিকে বিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রচলিত সব টিকার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বানানো টিকা বলা হচ্ছে।

দশককাল সময় নিয়ে বানানো টিকাগুলোর মতোই এই টিকাও গবেষণার সব প্রয়োজনীয় ধাপ অতিক্রম করেছে।

চূড়ান্ত ধাপের ট্রায়ালে টিকাটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ কার্যকর প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন।

অনুমোদন পাওয়ায় ফাইজারের এ টিকা এখন যুক্তরাজ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহারে আর কোনো বাধা থাকল না।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী সাইমন স্টিভেন্স জানিয়েছেন, তারা এখন তাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কেয়ার হোমের বাসিন্দা ও স্টাফ, ৮০ বছরের বেশি বয়সী নারী-পুরুষ, অন্যান্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কর্মীরাসহ তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

প্রত্যেককে ২১ দিনের ব্যবধানে টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হবে।

টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও সবাইকে এখনও সতর্ক থাকতে হবে এবং করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি রুখতে সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা এবং উপসর্গ দেখা দিলে শনাক্তকরণ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মতো নির্দেশনা মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার