পুড়াপাড়া বাজারের কোটি কোটি টাকার খাস জমি রক্ষা করতে ব্যর্থ সরকারী কর্মকর্তারা

আব্দুর রহিম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) থেকে॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া বাজারের কোটি কোটি টাকা মুল্যের খাস জমি যেন কোন ভাবেই রক্ষা করতে পারছেন না সরকারী কর্মকর্তারা। জমি গুলো একের পর এক দখল হয়ে যাচ্ছে। গড়ে উঠছে বহুতল ভবন সহ দোকান পাট। এদিকে দখল হয়ে যাওয়া জমি ফেরত আনার জন্য ৭৭টি মামলা করেও এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগের তীর ছুড়ছেন ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার দিকে। ভূমি কর্মকর্তা সামাউল ইসলাম ঘুরে ফিরে একই ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তার দায়ীত্ব নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তীর উঠছে।
মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নে ভূমি কর্মকর্তা সামাউল ইসলামের মামার বাড়ী হওয়ার কারনে রাতারাতি বাজারের জমি দখল করে ঘর তুলে নিলেও তিনি কিছুই করতে পারছেন না। বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সরকারী জমি কিভাবে ব্যক্তি নামে রেকর্ড হয় আমরা এই বাজারেই দেখলাম। যার কারণে সবাই সরকারী জমি দখলের মহোৎসবে মেতে উঠছে।
এদিকে এলাকার সুধি সমাজ সরকারের জমি ফেরত আনার জন্য ১৩৪ বিশ্বনাথপুর মৌজার হাল রেকর্ড পাবলিকের নামে হওয়ায় বাতিল করার জন্য গণ স্বাক্ষর করে ভূমি জরিপ অধিদপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

জানা গেছে মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর মৌজার পুড়াপাড়া বাজারের এসএ ১নং খতিয়ান ভূক্ত ৫ দাগে ৪০ শতক, ৮ দাগে ২.০৪ শতক, ১০ দাগে ২.৫৬ শতক, ১১ দাগে ৮১ শতক, ১৪ দাগে ৬৭ শতক, ১২ ও ২৯ দাগে ৭৫ শতক মোট ৭ একর ২৩ শতক জমি পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশ পক্ষে কালেক্টর যশোর এর নামে এস,এ রেকর্ড প্রকাশিত হয়। কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও ভূমি দস্যুরা বাজারের প্রায় সব খাস জমি দখল করে নিয়েছেন। ফলে বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসানোর কোন জায়গা নেই। সাম্প্রতি বাজারের হাইস্কুল রোডের রোজাউল হকের মুদি দোকানের দক্ষিন পাশে ৮ ও ১২ নং দাগে খাস ও পেরিফেরিভূক্ত জমির উপর উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া গ্রামের মৃত হুজুর আলীর ছেলে ওয়াজ্জেদ আলী প্রভাব খাটিয়ে ৫তলা ফাউন্ডেশন করে বহুতল ভবন নির্মানের কাজ শুরু করছেন।

এলাকার স্থানীয় জনগন এ ব্যাপারে স্থানীয় ভূমি অফিসে অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি বলে জানান। মান্দারবাড়ীয়ার (জোঁকা) ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সামাউল হোসেন ভবন নির্মানের স্থান পরিদর্শন করার পরের দিনই ওয়াজ্জেদ আলী বহুতল ভবন নির্মান করতে শুরু করেন। মান্দারবাড়ীয়ার (জোঁকা) উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সামাউল ইসলাম জানান আমি ওয়াজ্জেদ আলীকে ভবন নির্মান করতে নিষেধ করেছি। কিন্তু তিনি সকল নিষেধ অমান্য করে ভবন নির্মান করায় আমি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তাছাড়া ওয়াজ্জেদ আলীর বিরুদ্ধে আদালতের রায় রয়েছে।

মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের জানান, পুড়াপাড়া বাজার এই জেলার একটি বড় বাজার। সেখান থেকে সরকার প্রতি বছর দেড় থেকে ২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতো। কিন্তু সেই বাজারে দখল কারীদের কারণে হাট বসানোর মত সরকারী খাস জমি আর নেই। সব জমি ব্যক্তি নামে রেকর্ড হয়ে গেছে। আমি শুনছি এই বাজারসহ আশপাশের গ্রামের কয়েকশ’ লোক বিশ্বনাথপুর মৌজার আর এস রেকর্ড বাতিল চেয়ে ভূমি জরিপ অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী আনিসুল ইসলাম জানান, পুড়াপাড়া বাজারের সরকারী জমি ফেরত আনতে ৭৭টি মামলা করা হয়েছে যা একটি রেকর্ড। আমরা সরকারী জমি ফিরিয়ে আনতে যা যা করার করে যাচ্ছি। আমি নিজে জোনাল সেটেলমেন্ট স্যারের সাথে কথা বলেছি। তিনি আরও বলেন জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলে একটি বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে খুব তাড়াতাড়ি।

শেয়ার