চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন

যশোরে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র সেকেন্ড চান্স এডুকেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র আওতায় যশোরে সেকেন্ড চান্স এডুকেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই একটি এনজিও নিয়োগ বাণিজ্যে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসাথে ওই এনজিও ‘দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও সচিব বরাবর একাধিক অভিযোগও প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত ও যাচাই বাছাই ছাড়াই এনজিও নির্বাচন করা হলে অর্ধশত কোটি টাকার এই কর্মসূচির প্রকৃত উদ্দেশই ভেসে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোটা দেশের ঝরেপড়া শিশু কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র আওতায় সেকেন্ড চান্স এডুকেশন (সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫’ আউট অব স্কুল চিল্ড্রেন-(ওওএসসি) প্রোগ্রাম, পিইডিপি-৪) কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক জেলা থেকে একটি লিড এনজিও নির্বাচন করা হচ্ছে। এনজিও’গুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে যশোরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গত বছর ৭টি এনজিও’কে প্রাথমিকভাবে শর্ট লিস্ট তালিকায় রাখা হয়। সাতটির মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান ছিল দিশা সমাজকল্যান সংস্থার।

অভিযোগ উঠেছে, ওই সাত এনজিও’র তালিকায় থাকা দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক ও সুপারভাইজার নিয়োগের নামে অর্থ বাণিজ্যও চলছে জোরেসোরে। গোটা জেলায় ৫শতাধিক শিক্ষক ও শতাধিক সুপারভাইজার নিয়োগের কথা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষক প্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার এবং সুপারভাইজার প্রতি ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে অন্তত অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্যের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।

নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বরারব অভিযোগও প্রেরণ করা হয়েছে। যশোর সদর উপজেলার কামারগোন্না গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের ছেলে হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেছেন, সুপারভাইজার পদে নিয়োগের জন্য দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থায় আবেদন করলে তার কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক। পরে ২০ হাজার টাকা দিয়েও কোনো নিয়োগপত্র পাননি। উল্টো নির্বাহী পরিচালকের কথা সন্দেহজনক হওয়ায় তিনি প্রতিমন্ত্রী বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে এমন আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

এদিকে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সক্ষমতা বিচারে সাতটি ক্রায়টেরিয়া নির্ধারণ করা হলেও এর অধিকাংশই দিশা’ নেই বলে দাবি করেছেন প্রাথমিক তালিকায় থাকা এনজিওসমূহ বিষয়টি তুলে ধরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বরাবর একটি আবেদনও জমা দিয়েছেন। আবেদনে তারা দাবি করেছেন, সাতটি ক্রাইটেরিয়ার কোনোটিই পুরোপুরি পূরণ করতে সক্ষম নয় ওই এনজিওটি। এজন্য তারা যথাযথ তদন্তেরও আবেদন করেছেন।

সূত্র আরও জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় একই ধরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাতটি জেলায় লিড এনজিও নির্ধারণ করে চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও দেয়া হয়নি। যশোরও এই তালিকায় রয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে যশোরেও তদন্তের উদ্যোগ রয়েছে।

সেকেন্ড চান্স এডুকেশন নিয়ে যশোর জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ বজলুর রশিদের সঙ্গে। তিনি জানান, ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার জন্য সরকার এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলায় ৪২ মাসের জন্য গড়ে ৭০টি করে স্কুল বা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হবে। গড়ে ৩০ জন শিশু এই কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক ও দক্ষতাসৃষ্টিমূলক শিক্ষা অর্জন করবে। প্রতি স্কুলে একজন করে শিক্ষক এবং প্রতি ৫টি স্কুলের জন্য একজন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হবে। মন্ত্রণালয় নির্ধারিত এনজিও এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প ব্যয় অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে দিশা সমাজকল্যাণ সংস্থা নির্বাচিত হয়েছে। তবে তাদের নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ‘দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক রাহিমা সুলতানা বলেন, যশোরে সেকেন্ড চান্স এডুকেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছেন। এজন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।
অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, যারা নিয়োগ পাচ্ছেন না, তারাই এ ধরণের অভিযোগ করছেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে তার সক্ষমতা আছে। তবে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনিও শুনেছেন তদন্ত’র কথা। কিন্তু কেন কি কারণে হবে তা তিনি জানেন না।

শেয়ার