এক ডজন মামলায় প্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও আটক করেনি পুলিশ
বাঘারপাড়ায় ‘ধানের শীষের’ প্রচারণায় টিএস আইয়ুব

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রায় এক ডজন মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে প্রকাশ্যে ভোটের মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেন। পুলিশ সব কিছু জেনেও না জানার ভান করছে। বাঘারপাড়া থানা পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। গুঞ্জন উঠেছে আওয়ামী লীগের এক জনপ্রতিনিধির মধ্যস্থতায় পুলিশের সাথে মোটা অংকের লেনেদেনের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেন ভোটের মাঠে নেমেছেন।

জানা গেছে, বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আগামী ১০ ডিসেম্বর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিনজন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের প্রায়ত চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম কাজলের স্ত্রী ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী। একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলু পাটোয়ারী ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন শামসুর রহমান। গুঞ্জন উঠেছে স্থানীয় সাংসদের কাছের নেতাকর্মীরা দিলু পাটোয়ারী পক্ষে কাজ করছেন। এ কারণে আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমানের ভোটের মাঠ গরম করতে আওয়ামী লীগের ওই জনপ্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেনকে মাঠে নামিয়েছেন। একটি সূত্রের দাবি, গত এক সপ্তাহ আগে ঢাকার একটি স্থানে ওই জনপ্রতিনিধি ও ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেনের সাথে গোপন বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে তার সার সংক্ষেপ হচ্ছে নৌকাকে ফেল করাতে যা যা প্রয়োজন তা ওই জনপ্রতিনিধি করবেন। এমনকি ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেন নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার জন্য পুলিশের সব দায়িত্বও নিয়েছেন ওই জনপ্রতিনিধি।

একটি সূত্র দাবি করেছেন, ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেনর নামে কমপক্ষে আটটি মামলার প্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বাঘারপাড়া থানার মামলা নং ২১, তারিখ ৩০/১১/২০১৭ যার জিআর নং ১৮১/২০১৭, একই থানার মামলা নং ১, তারিখ ০১/০২/২০১৮ যার জিআর নং ২০/২০১৮, একই থানার মামলার নং ১৯, তারিখ ৩১/১০/২০১৮ যার জিআর নং ১৮০/১৮, একই থানার মামলা নং ১৭, তারিখ ৩০/০৯/২০১৮ সহ যশোর সদর থানায় আরো তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ওই সূত্র আরো দাবি করেছে, ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে তিনটি নাশকতার মামলা হয়। মামলা নং যথাক্রমে ১, ২ ও ৩। যার জিআর নং যথাক্রমে ১৪২/১৮, ১৪৩/১৮ ও ১৪৪/১৮। এ সব মামলা ছাড়াও আরো কয়েকটি মামলা রয়েছে। যে গুলোতে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেন এখনও জামিন নেননি। গত শুক্রবার ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেন বাঘারপাড়ার জহুরপুর ও বন্দবিলা ইউনিয়নে ও গতকাল শনিবার বাঘারপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী বিএনপি প্রার্থী শামসুর রহমানকে নিয়ে ধানের শীষের প্রচারণা চালান। এতগুলো মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেন কিভাবে পুলিশের চোখের সামনে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে রয়েছে নানান প্রশ্ন।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন বলেছেন, টিএস আইয়ুবকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হলে তিনি গা ঢাকা দেন।

শেয়ার