হোয়াইট হাউস ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন নিশ্চিত হলেই হোয়াইট হাউস ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প।

চলতি মাসের ৩ তারিখে হওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গণনাকৃত ভোটের ধারা অনুযায়ী রিপাবলিকান এ প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে সুস্পষ্ট ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন বলে ধারণা পাওয়া গেলেও ৭৪ বছর বয়সী ট্রাম্প এখন পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করেননি।

বৃহস্পতিবারও তিনি সাংবাদিকদের কাছে ‘হার মেনে নেওয়া কঠিন হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিন তিনি ফের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিভিন্ন রাজ্যের ভোটের ফল অনুযায়ী বাইডেনকে ট্রাম্পের তুলনায় ইলেকটোরাল ভোটে ৩০৬-২৩২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রেসিডেন্ট ঠিক হয় না, হয় রাজ্যগুলোর জন্য আনুপাতিক হারে বরাদ্দ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পদ্ধতিতে।

নির্বাচিত হতে হলে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে ন্যূনতম ২৭০টি ব্যাগে পুরতে হয়।

পপুলার ভোটেও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন রিপাবলিকান ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ৬০ লাখেরও বেশি ভোট পেয়েছেন বলে গণনায় দেখা গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, আগামী মাসে ইলেকটররা একত্রিত হয়ে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা সারবেন। সব ঠিক থাকলে ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনেরই শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার লক্ষ্যে ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা বেশ কয়েকটি রাজ্যে আইনি লড়াইয়ে নামলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আদালত তাদের আবেদন আমলে নেয়নি।

কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তা শেষে ট্রাম্প দিনকয়েক আগে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুতে সম্মতিও দিয়েছেন। যার ফলে বাইডেন এখন নিয়মিতই গোয়েন্দা ব্রিফিং পাচ্ছেন; তার শিবির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতির জন্য লাখ লাখ ডলার খরচের সুযোগ পাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে হারলে তিনি হোয়াইট হাউস ছেড়ে দেবেন কিনা, এমন প্রশ্ন করলে জবাবে এ রিপাবলিকান বলেন, “অবশ্যই আমি ছাড়বো, অবশ্যই ছাড়বো এবং আপনারা তা জানেন।”

বাইডেনকে বেছে নিলে ইলেকটররা ‘ভুল করবে’ মন্তব্য করার পাশাপাশি কখনোই পরাজয় স্বীকার করে নেবেন না এমন ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

“হার মেনে নেওয়া সত্যিই খুব কঠিন হবে, কেননা আমরা জানি সেখানে (নির্বাচন) বড় ধরনের জালিয়াতি হয়েছে,” বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফের এ অভিযোগ করলেও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।

ক্ষমতা হারানোর পর নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে থাকবেন কিনা, সে প্রসঙ্গেও কিছু বলেননি তিনি।

শেয়ার