মোরেলগঞ্জ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু

বাগেরহাট প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারী লাখ লাখ টাকা আতœসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মোরেলগঞ্জে শিক্ষকদের সাবক্লাষ্টার প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমান টাকা ভুয়া বিল- ভাউচার দিয়ে তিনি তুলে নিয়ে আতœসাত করেছেন। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ঘিরে জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দূর্নীতিবাজ চক্র ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে সহযোগীতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ শিক্ষা কর্মকর্তার দূর্নীতির বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রনালয়ের সচিব, বিভাগীয় উপ পরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেনে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নবুয়াত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে।

অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ২০১৯-২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী ৫০টি সাবক্লাষ্টার প্রশিক্ষণ (দ্বিতীয় পর্যায়)- এর জন্য ৬লাখ ২৭হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও মন্ত্রনালয়। উপজেলার তিন শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদান ও শিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্কুল ব্যবস্থাপনায় পারদর্শিতা বাড়াতে এ প্রশিক্ষণের জন্য এ বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারের বরাদ্দ দেয়া এ টাকার আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কিন্তু দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন শুরুর পর স্কুল বন্ধ ঘোষনা ও জনসমাগম নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রশিক্ষণ বাবদ এ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া মোরেলগঞ্জে জাতীয় সংসদের বাগেরহাট-৪ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মকর্তারা নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে ব্যঘাত ঘটে। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: জালাল উদ্দিন প্রশিক্ষণের ভুয়া বিল-ভাউচার করে বরাদ্ধকৃত কয়েক লাখ টাকা আতœসাত করেছেন। তিনি মোরেলগঞ্জ উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসারদেরকে এ কাজে বাধ্য করেছেন। তবে প্রশিক্ষণ না হওয়ায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অসীম কুমার সরকার ও সজল কুমার মোহালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গা থেকে ১০টি প্রশিক্ষণ বাবদ একলাখ ৫০হাজার টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন। এদিকে এ বিপুল পরিমান অর্থ আতœসাত ও অনিয়ম- র্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন শিক্ষক ও শামীম মল্লিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রনালয়ের সচিব, খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন।

এদিকে, মোরেলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় অফিসের উপ পরিচালক মো: নবুয়াত হোসেন সরকার মহাপরিচালকের নির্দেশে বিষয়টি নিয়ে মোরেলগঞ্জে এসে তদন্ত করে অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রমান পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো: নবুয়াত হোসেন সরকার জানান, তিনি মহাপরিচালকের নির্দেশনা পেয়ে সরেজমিন মোরেলগঞ্জ উপজেলায় তদন্তে যান। সেখানে তিনি প্রশিক্ষণ না হওয়ার তথ্য পেয়েছেন। কিন্তু বেশীরভাগ টাকা খরচ দেখিয়ে তুলে নেয়া হয়েছে। এছাড়া দুইজন সহকারী শিক্ষা অফিসার অসীম কুমার সরকার ও সজল কুমার মোহালীর ক্লাষ্টারে প্রশিক্ষণ না হওয়ায় ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার রশিদ সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে আরও তদন্তের পর প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। তবে সিদ্ধান্ত নেবেন মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে।

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জের উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: জালাল উদ্দিন জানান, সাবক্লাষ্টার প্রশিক্ষণের বরাদ্দ পেয়ে উপজেলার সবগুলো ক্লাষ্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসারকে প্রশিক্ষণের নির্দেশনা দেয়া হয়। সেই মোতাবেক তারা প্রশিক্ষণ করিয়েছেন। ভুয়া বিল-ভাউচার করার কোন প্রশ্নই ওঠে না। যে প্রশিক্ষণগুলো হয়নি সেগুলোর টাকা ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। তবে করোনায় স্কুল বন্ধ ও সমাবেশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সবগুলো প্রশিক্ষণ কিভাবে হলো এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি তিনি। এছাড়া মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে তদন্তের কথা স্বীকার করে জানান, যারা অভিযোগ করেছে তারা সুবিধা না নিতে পেরেই এমন অভিযোগ করছে।

অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মোহাম্মদ মনসুরুল আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালককে বাগেরহাটের সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার কবির উদ্দিন ও মোরেলগঞ্জের শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম ও দূর্নীতির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার