২২টি রাস্তা পাঁকাকরণসহ অসংখ্য উন্নয়নে বেড়েছে নাগরিক সুবিধা

কেশবপুর পৌরসভার চালচিত্র : দুই নং ওয়ার্ড

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর)॥ যশোরের কেশবপুর পৌরসভায় গেল ৫ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তা, ফুটপাত, ড্রেনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে তেমনি সড়ক বাতি, সোলার লাইট, ফুলগাছ রোপনের কারণে শহরের শোভাবর্ধন হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডেই ২২টি রাস্তা পাঁকাকরণ, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উন্নয়নেও ব্যয় হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এর ফলে ভাঙ্গাচোরা রাস্তার পরিবর্তে সিসি ঢালাই ও পিচঢালা পথে নিশ্চিতে-স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছেন এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। তেমনি সড়কবাতি ও সোলার লাইটটের কারণে পুরা দুই নম্বর ওয়ার্ডেই রাতের বেলায় আলোকিত থাকে। পুরা ওয়ার্ডের প্রতিটি ঘরে শতভাগ বিদ্যুত পৌছে গেছে। সুপেয় পানির লাইনও দ্রুত গতিতে সম্প্রসারণ হচ্ছে।

জানা গেছে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মরহুম এএসএইচকে সাদেকের প্রচেষ্টায় ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কেশবপুর পৌরসভা। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ২ শ’ ৪৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দি দুই বারের মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস ৫ হাজার ৬ শ’ ২ ভোট পেয়েছিলেন। বিগত ৫ বছরে কেশবপুর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলামের দক্ষতায় পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তেমনি বেড়েছে নাগরিক সুবিধাও।

 

 

সূত্র মতে, কেশবপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড ভোগতী নরেন্দ্রপুর নিয়ে গঠিত। এলজিএসপি, এডিপি, ইউজিএফ, রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড ভোগতী নরেন্দ্রপুর ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী সড়ক হতে শীতলতার মোড় পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিং, ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে হাবিবের বাড়ির পশ্চিম পাশ হতে হাজির পুকুর পাড় পর্যন্ত রাস্তা কার্পেটিং, কেশবপুর হাসপাতালের পিছনে মূলগ্রাম রোড হতে রফিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা আরসিসি ঢালাই, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে মুলগ্রাম সড়ক হতে সিরাজ সাংবাদিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ইটের সলিং, ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মুলগ্রাম সড়ক হতে জাকারিয়ার পাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে কালা বায়সা মোড় হতে মন্দির পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মুলগ্রাম সড়ক হতে মিজানের বাড়ির পাশ দিয়ে ফকির পাড়ার শেষ সীমানা পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্বপনের দোকান হতে ডালিমের বাড়ি হয়ে গোলদারপাড়া পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে মুলগ্রাম সড়ক হতে সোবহান পেশকারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ইটের সলিং, ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুলগ্রাম সড়ক হতে কছিমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে নজরুলের বাড়ি হতে বিশ্বাসপাড়া পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মিজানের বাড়ির সামনে হতে রাজ্জাক মিস্ত্রির বাড় পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভোগতী নরেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাল দিয়ে বিশ্বাসপাড়া শেষ মাথা পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সুলতানের বাড়ি সামনে মোড় হতে জব্বারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী রোড় হতে রাস্তা কার্পেটিং, ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী রোড় হতে সালাম মালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী রোড় হতে করিমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী রোড় হতে বুড়িভদ্রা পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী রোড় হতে শুকুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী রোড় হতে ঢালাই মেশিনের দোকানের পশ্চিম পাশ পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই, শীতলতলা মোড় হতে পৌরসভার শেষ মাথা পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে, তরিকুলের বাড়ির পাশের জামে মসজিদে ১ লাখ টাকা, সামাদ মাস্টারের বাড়ির পাশের জামে মসজিদে ১ লাখ টাকা, ভোগতী নরেন্দ্রপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার মসজিদে ১ লাখ টাকা, ভোগতী পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে ১ লাখ টাকা-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠারে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২নং ওয়ার্ডের প্রতিটি বড়িতে বিদ্যুত সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। ইতিপূর্বে যেখানে অর্ধেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। সুপেয় পানির সংযোগ দ্রুত গতিতে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ১০টি সোলার ও ১০৫টি স্ট্রিট লাইট সংযোগ দিয়ে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডকে আলোকিত করা হয়েছে। এছাড়া বিগত ২টি বন্যায় সরকারিভাবে, পৌরসভার অর্থায়নে ও পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের অর্থায়নে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছিল। তছাড়া বিভিন্ন সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণের ব্যবস্থা করেছিলেন।

অপরদিকে, বর্তমানে করোনাকালীন সময়ে সরকারিভাবে, কেশবপুরের সাংসদ শাহীন চাকলাদারের অর্থায়নে, পৌরসভার অর্থায়নে ও পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের অর্থায়নে পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া ২ নং ওয়ার্ডের শোভা বর্ধনে পর্যাপ্ত ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, রফিকুল ইসলাম পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ভোগতী নরেন্দ্রপুর ওয়ার্ডের প্রয়োজনীয় সকল রাস্তা পাকাকরণ করেছেন। শতভাগ বাড়িতে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করেছেন। মসজিদ-মন্দিরে অনুদান প্রদান করেছেন। এককথায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
এব্যাপারে পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আরো উন্নয়ন করে মডেল পৌরসভা করার জন্য তিনি আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

শেয়ার