আ’লীগের বর্ধিত সভায় পর পাল্টে গেছে নৌকার নির্বাচনী পরিবেশ

বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নৌকা প্রতীকের পালে ততই হাওয়া লাগছে। তফসিল ঘোষণার পর প্রথম দিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপক্ষে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ইন্ধন যোগালেও নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসার সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে চিত্র। বিশেষ করে গত ২৩ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের উপস্থিতিতে বিশেষ বর্ধিত সভায় কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহবান জানানোর পর পাল্টে যেতে শুরু করে মাঠের পরিবেশ।
সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থী ভিক্টোরিয়া পারভিন সাথীর বিপক্ষে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলু পাটোয়ারীর পক্ষে কাজ করছিলো প্রথম দিকে। ইউনিয়নের দায়িত্বশীল পদের অনেকেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোটের মাঠে ছিলেন। কিন্তু তাদের থামাতে জেলা ও উপজেলার নেতারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অনেকে নৌকার পক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সূত্রের দাবি, মাত্র ৫ মাস পরেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আর পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে ইসি। ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা উপজেলায় নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করলে তাদের ভবিষ্যত খারাপ হতে পারে। এ সব বিবেচনায় করে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলুর পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতারা চুপ হয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের অবস্থানের উপরও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নজরদারি করছে বলে ওই সূত্রটি দাবি করেছে।

দোহাকুলা গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা যাকে নৌকা দিয়েছেন; এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ কারণে নেতাকর্মীরা বিভেদ ভুলে দিনদিন এক কাতারে আসছেন। তাই উপজেলায় চলছে নৌকার প্রচার প্রচারণা। চলছে লিফলেট বিতরণ আর মাইকিং। প্রার্থী ভিক্টোরিয়া পারভিন সাথী কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন উপজেলা সদর থেকে গ্রামের অলি গলিতে। জানান দিচ্ছেন, ভোটের মাঠে আসার কারণ, তুলে ধরছেন বাঘারপাড়াবাসীর হৃদয়ে প্রয়াত স্বামী কাজলের যে স্থান ছিল তা আরো মজবুত করতে। ভোটারদের উদ্দেশ্য সাথী বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর নৌকা র্মাকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। এদিকে পোস্টারে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা, নৌকার পক্ষের নানা ছন্দ আর গানের তালে চলছে অবিরাম মাইকিং।

নির্বাচনে একটি পৌরসভা ও ৯ টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭শ’ ৭৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

শেয়ার