যশোরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবসে গতকাল যশোরে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সকালে যশোর জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে শহরের দড়াটানায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এতে বক্তারা বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল প্রকার নারী ও শিশু নির্যাতনের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোচ্চ একশ’ ৮০ দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। অপরাধী যেই হোক তার বিচার ও শাস্তি দিতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক সকিনা খাতুন, বাঁচতে শেখার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গোমেজ, জয়তী সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস, সলিডারিটি সেন্টারের কর্মকর্তা শামসুন্নাহার পান্না, এফপিএবির জেলা কর্মকর্তা আবিদুর রহমান, এডাব সহ-সভাপতি শাহাজাহান নান্নু, অ্যাডভোকেট তাহমিদ আকাশ, ফরিদা ইয়াসমিন, ওয়ার্ল্ড ভিশন যশোরের প্রজেক্ট অফিসার জাকিয়া সুলতানা, উইক্যান যশোরের সেক্রেটারি আব্দুল লতিফ, প্রাইড কর্মকর্তা উজ্জ্বল বালা, আফনান কর্মকর্তা আবু সাঈদ প্রমুখ। মানববন্ধনে ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচিসহ ৩০ টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
মানববন্ধন শেষে এনজিও প্রতিষ্ঠান উইক্যান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৯ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে এ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক রফিকুল হাসান।
এদিকে, বুধবার দুপুর ১২ টায় প্রেস ক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা মহিলা পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার কনা সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও দাবিগুরো তুলে ধরেন।
এসময় তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৫ নভেম্বরের নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দূরীকরণের দিবস থেকে শুরু করে ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পর্যন্ত ১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ক্যাম্পেইনটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদযাপন করা হয়। ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় ১৮৭টি দেশের ছয় হাজারেরও বেশি সংস্থা এই প্রচারে অংশ নিয়ে আসছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস (২৫ নভেম্বর-১০ ডিসেম্বর) পালন করবে মহিলা পরিষদ। পরিষদের কেন্দ্রসহ তৃণমূল শাখায় ১৫ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে মহিলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, আলোচনা সভা, মতবিনিময় সভা, সমাবেশ, পোস্টার, প্রচারপত্র বিলি, স্মারকলিপি প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া পক্ষকালব্যাপী বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নির্মিত পারিবারিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন, ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্মিত টিভি স্পট বিটিভিসহ বিভিন্ন চ্যানেলে সম্প্রচার করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে নারীর প্রতি সকল সহিংসতার অবসান ঘটাতে হলে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আইন সংস্কার ও ২৯টি নারী বৈষম্যমূলক সুপারিশ দাবি জানান। এছাড়া বাংলাদেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৭শ’ ১১ টি নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাবিবা শেফা, মহিলা পরিষদ নেত্রী অধ্যাপক সুরাইয়া শরীফ, জেলা কমিটির সভাপতি আফরোজা শিরিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারদিনা রহমান এ্যানি, প্রশিক্ষণ গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক নাজমা পারভীন হিরন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক সায়েদা বানু শিল্পী প্রমুখ।
অন্যদিকে, ‘কমলা রংয়ের বিশে^ নারী, বাঁধার পথ দেবেই পাড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০২০ উপলক্ষে জয়তী সোসাইটি যশোরের আয়োজনে গতকাল সকালে শহরের মুজিব সড়কস্থ সংস্থার অফিসের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জয়তী সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ^াস, ইউনিট ম্যানেজার ফিরোজা খাতুন, বর্নালী সরকার, সিরিয়া সুলতানা রিনা, হালিমা খাতুন শিল্পী, শাহিনা আক্তার সীমা, শাহানাজ পারভীন রুপা, শাহানাজ খন্দোকার সুমি, সিনিয়র হিসাব রক্ষক হাজেরা খাতুনসহ জয়তী সোসাইটির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নারীপক্ষ ও দূর্বার নেটওয়ার্ক যশোরের শাহিদা বেগম। বিশেষ প্রতিবেদন পাঠ করেন জয়তী সোসাইটির ইউনিট ম্যানেজার ফিরোজা খাতুন এবং দেশে ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা করেন।

শেয়ার