যশোরে মিরাজের খুনি তার ভাই ১৪ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে মিরাজের খুনি তার ভাই ইয়াছিন জমাদ্দার ইরানকে গত ১৪ দিনেও আটক করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিলেও তাকে ধরতে তেমন কোন তৎপর নয় তদন্ত কর্মকর্তা-বলছেন নিহতের পরিবার।

গত ১৩ নভেম্বর শহরের ঢাকা রোড বাবলাতলা খুন হন মিরাজ। তিনি যশোর শহরের ঢাকা রোড বাবলাতলার সিরাজুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া মানিক জমাদ্দারের ছেলে।

নিহতের স্ত্রী সাথী খাতুন বলেছেন, সংসারে এক মাত্র উপার্যনকারী ব্যক্তি ছিলেন তার স্বামী মিরাজ। তাকে না জানিয়ে যদিও দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন কিন্তু সংসার পরিচালনা তিনিই করতেন। প্রথম স্ত্রী সাথী খাতুন দুইটি নাবালক সন্ত্রানসহ পাগলাদাহ গ্রামের মাঠপাড়ায় শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে বসবাস করতেন। আর স্বামী মিরাজ জমাদ্দার তার দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা খাতুন মিমকে নিয়ে শহরের ঢাকা রোড বাবলাতলা মিরাজুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়ায় বাসায় বসবাস করতেন। একই বাড়িতে মিরাজের বোন ময়না খাতুন তার স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। স্বামী মিরাজের দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়ে দেবর ইয়াছিন জমাদ্দার ইরানের সাথে বিরোধ চলে আসছে। গত ১৩ নভেম্বর দুপুরে শ্বশুর, শাশুড়িসহ ননদ ময়নার বাসায় মিরাজদের দুই ভাই ও তিন বোনের দাওয়াত ছিল। সবাই সেখানে গিয়েছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে মিরাজ গোসল সরবে বলে প্রথম স্ত্রী সাথী খাতুনকে টিউবওয়েল চেপে দিতে বলেন। এসময় বোন ময়না বলছেন ছোট স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছো বড় স্ত্রী কেন টিউবয়েল চেপে দিবে ? এতে বোন এবং বড় স্ত্রী সাথীর উপর ক্ষিপ্ত হন মিরাজ। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তাকে নিষেধ করায় ইট দিয়ে আঘাত করলে ময়নার পায়ে রক্তপাত ঘটে। পরিবারের অন্যরা তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপালে নিয়ে যান। এরই মধ্যে খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই বাসায় আসে ছোট ভাই ইয়াছিন জমাদ্দার ইরান। এসময় দুই ভাইয়ের মধ্যে কর্তবিতর্কের মধ্যে ইরানের হাতে থাকা চাকু দিয়ে মিরাজের বুকে আঘাত করে। প্রচুর রক্তপাতের কারণে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মিরাজ। তাকে বিকেল ৫টার দিকে নিয়ে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাড়ে ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন এই ব্যাপারে পরিবারের সবার মতমতের ভিত্তিতে ইয়াছিন জমাদ্দার ইরানের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়।

এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে ছোট ভাই ইরান। কিন্তু ইরানের অবস্থান জানা সম্পর্কে তেমন কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না তদন্ত কর্মকর্তা। ফলে ইরানকে আটক করতে না পারলে মামলাটির ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাদী সাথী খাতুন। সাথী খাতুন আরো বলেছেন, নাবালক দুইটি সন্তান নিয়ে অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটছে তাদের। কারণ সংসারে এক মাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি না থাকায় খুবই কষ্টে চলতে হচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ইয়াছিনকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার