রাস্তা, ফুটপাতসহ নানা খাতের উন্নয়নে বেড়েছে নাগরিক সুবিধা

কেশবপুর পৌরসভার চালচিত্র : এক নং ওয়ার্ড

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) থেকে ॥ যশোরের কেশবপুর পৌরসভায় গেল ৫ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তা, ফুটপাত, ড্রেনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে।
এরমধ্যে শুধুমাত্র পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডেই মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উন্নয়নেও ব্যয় হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। রাস্তা, ফুটপাত, ড্রেন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে অন্তত ২০ কোটি টাকা। এর কারণে ভাঙ্গাচোরা রাস্তার পরিবর্তে পিচঢালা পথে নিশ্চিতে-স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছেন এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

 

জানা গেছে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মরহুম এএসএইচকে সাদেকের প্রচেষ্টায় ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কেশবপুর পৌরসভা। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ২ শ’ ৪৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বারের মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস ৫ হাজার ৬ শ’ ২ ভোট পেয়েছিলেন। বিগত ৫ বছরে কেশবপুর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলামের দক্ষতায় পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তেমনি বেড়েছে নাগরিক সুবিধাও। সূত্র মতে, কেশবপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কেশবপুর ও ভবানীপুর নিয়ে গঠিত। এলজিএসপি, এডিপি, ইউজিএফ, রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ১ নং ওয়ার্ডে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬টি পাকা সড়ক, দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি পাকা ড্রেন, ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। ৪টি মসজেদে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ২টি মন্দিরে ৬ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেশবপুর শহরের অনন্ত সাহা সড়ক ভায়া মূলগ্রাম সড়ক নির্মাণ (আরসিসি), ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবানী পুরের আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে পিনুর মোড় হতে নোনাডাঙ্গা পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিং, ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের বাড়ির দু’পাশ ও ভবানীপুর স্লুইজগেট হতে সাংবাদিক নূরুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ, ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাবানীপুর মশিয়ারের বাড়ি হতে হাবাসপোল স্কুল পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ, ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে অনন্ত সাহা সড়ক হতে নিরাঞ্জনের বাড়ির দুইপাশ পাইলিং-সহ রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ, ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কেশবপুর হযরত ওমর (রাঃ) মসজিদ হতে ইমতিয়াজের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ, ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে গোবিন্দ’র দোকান হতে রজব আলী মাস্টারের বাড়ি ভায়া গাছতলা পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ, ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবানীপুর লিটন গাজীর বাড়ির সামনে হতে তবিবারের পাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ, ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নোনাডাঙ্গা মশিয়ারের বাড়ি হতে জামালের বাড়ি হয়ে পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ, ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মূলগ্রাম রাস্তা হতে জগন্নাথপুর প্রভাষক হুমায়ুনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ, ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নোনাডাঙ্গা মোড় হতে সিরাজের মিল পর্যন্ত রাস্তা পাইলিং-সহ সিসি ঢালাইকরণ, ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে কালী বাড়ি হতে পুরাতন রাস্তা আরসিসি ঢালাইকরণ, ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে হরিতলা মন্দিরের রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে সাধনের বাড়ি হতে নিরাঞ্জনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ করা হয়েছে। আর ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে গাজীবাড়ি হতে শাহাপাড়া হয়ে খোজাখালী পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই ড্রেন এবং ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে শাহাপাড়ার নিরাঞ্জনের বাড়ির দুই পাশের ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে শহরের মেইন সড়কে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠপাড়া জামে মসজিদে এলজিইডি থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পৌরসভা থেকে ১ লাখ টাকা ও এমপির বরাদ্দ থেকে ১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং কেশবপুর হযরত ওমর (রাঃ) মসজিদ ১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে ও সামাদ হুজুরের মসজিদে টাইলস প্রদান করা হয়েছে। হরিতলা মন্দিরের ছাদ নির্মাণের জন্য ৩ লাখ টাকা ছাড়াও কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে কয়েকবার অনুদান প্রদান করা হয়েছে। গমপট্টির আরসিসি রাস্তা মেরামত বাবদ ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে হাবাসপোলের রাস্তা মাটি দ্বারা উঁচুকরণ এবং ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবানিপুরের রাস্তা মাটি দ্বারা উঁচুকরণ করা হয়েছে। পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম ১নং ওয়ার্ডের প্রতিটি বড়িতে বিদ্যুত সংযোগ ও সুপেয় পানির সংযোগ প্রদান করেছে। ১৭টি সোলার ও ৭১টি স্ট্রিট লাইট সংযোগ দিয়ে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডকে আলোকিত করা হয়েছে। এছাড়া ২টি বন্যায় সরকারিভাবে, পৌরসভার অর্থায়নে ও পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের অর্থায়নে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছিল। তছাড়া বিভিন্ন সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণের ব্যবস্থা করেছিলেন।

অপরদিকে, বর্তমানে করোনাকালীন সময়ে সরকারিভাবে, কেশবপুরের সাংসদ শাহীন চাকলাদারের অর্থায়নে, পৌরসভার অর্থায়নে ও পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের অর্থায়নে পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া ১ নং ওয়ার্ডের শোভা বর্ধনে পর্যাপ্ত ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে।

এব্যাপারে পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আরো উন্নয়ন করে মডেল পৌরসভা করার জন্য তিনি আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

শেয়ার