গুড়িয়ে দেয়া হলো মনিহার-মুড়লি রোডের ৭০ অবৈধ স্থাপনা

চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের জন্য সওজের অভিযান

সালমান হাসান রাজিব
অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে যশোরের মনিহার-মুড়লি রোডে আবারো উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের জন্য যশোর শহরের এই সড়কটিতে উচ্ছেদ চালানো হয়। সোমবার সকালে শুরু হওয়া অভিযানে স্কেভেটর ও পেলোডার চালিয়ে ৭০টির মতন অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া নোটিশ পেয়ে বাদবাকী অবৈধ স্থাপনা আগে থেকে সরিয়ে নেয় দখলদাররা। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও যারা অপসরাণ করেনি তাদের স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সড়কটির অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। তখন রোডটির দুই পাশের আড়াইশ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। করোনার মধ্যে দীর্ঘ বিরতির পর ফের অভিযান চালিয়ে দখলদার উচ্ছেদ করা হলো। গতকাল শহরের কোল্ড স্টোর মোড় থেকে উচ্ছেদ শুরু হয়। এখান থেকে বারান্দীপাড়া (ঢাকা রোড ব্রিজ) পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলে। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চালানো অভিযানে হোটেল, দোকান, মোটর গাড়ির গ্যারেজ, পেট্রোল পাম্প ও বসতবাড়ির আংশিক ভাঙা পড়ে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের খুলনা জোনের স্টেট ও আইন কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) অনিন্দিতা রায় জানান, ২০০টি অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য আগেই নোটিশ করা হয়েছিল। এসব দখলদারের অনেকেই নিজ থেকে তাদের স্থাপন সরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও অপসারণ করেননি এমন অবৈধ দখলদারদের ৬৫ থেকে ৭০টির মতন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

জানা যায়, যশোর শহরের পালবাড়ি-দড়াটানা-মনিহার-মুড়লি জাতীয় মহাসড়কের মনিহার এলাকা থেকে মুড়লি অংশ চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। এখানে চার লেনের পাশাপাশি ধীর গতির যান চলাচলের জন্য আরো দুটি লেন নির্মাণ হবে। পাশাপাশি মহাসড়কের জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই পাশে নির্মাণ হবে ড্রেনও। আর এই কাজের জন্য ব্যয় করা হবে ১৩১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এই পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে ২ দশমিক ৯০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে রূপান্তরিত হবে। এছাড়া এখনকার প্রশস্থতা বাড়িয়ে উন্নীত করা হবে ১১৬ ফুটে। আর সড়কটির এই চার লেনে রূপান্তরের অংশ হিসেবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

সওজ যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, উচ্ছেদ অভিযান চালানোর বিষয়ে সবার অবগতির জন্য বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২২ নভেম্বরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনাসহ সরকারি জায়গায় রাখা মালামাল সরিয়ে নিতে বলা হয়। সূত্র মতে, জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিদ্যুত বিভাগ কর্মীরা এদিনের উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করেন।

শেয়ার