উদ্বোধনী সন্ধ্যায় তিন তারকার লড়াই

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টির শুরুতেই অগ্নি পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তামিম ইকবালকে। টুর্নামেন্টের শুরুটা রাঙাতে তাকে টেক্কা দিতে হবে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো দুই টি-টোয়েন্টি দলপতিকে, ভন্ডুল করে দিতে হবে তাদের সমন্বিত রণ কৌশল।

জেমকন খুলনার দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশ দলেরও বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলপতি। যে দায়িত্বে মাত্র এক বছর আগেও ছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় আইসিসি কর্তৃক এক বছর নিষিদ্ধ হলে গত বছরের অক্টোবরে টি-টোয়েন্টির ব্যাটন তুলে দেওয়া হয় মাহমুদউল্লাহর হাতে। কাজেই ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এই ফরম্যাটে কোন চালে প্রতিপক্ষ সহজেই কুপোকাত হবে তা তাদের বেশ ভালো জানা আছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের।

তাছাড়া এই ম্যাচ দিয়েই এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে ক্রিকেটে ফিরছেন সাকিব আল হাসান। ফেরাটা রাজসিক করতে নিশ্চয়ই তিনি নিজের সেরাটা উজাড় করে দিবেন। আর সাকিব নিজেকে উজাড় করে দিলে প্রতিপক্ষের কী হাল হয় তা শুধু এদেশই নয় বিশ্ব ক্রিকেটও অবাক বিস্ময়ে দেখেছে। সঙ্গত কারণেই টুর্নামেন্টের শুরুটা বর্ণিল করে তুলতে ফরচুন বরিশালের দলপতি তামিম ইকবালকে বেশ কাঠখড়িই পোড়াতে হবে।

আবার যদি তামিম ইকবালের ব্যাট গর্জে উঠে! তাহলে কিন্তু সাড়ে সর্বনাশ। সেই গর্জনে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে জেমকন খুলনা। তখন সাকিব, মাহমুদউল্লাহও হারের লাগাম টেনে ধরতে পারবেন না। বৃথাই যাবে তাদের বরিশাল বধের সকল নীলকশা।

লাল সবুজের ক্রিকেটের অভিজ্ঞ তিন টাইগারের ঠিক এমনই এক জমজমাট লড়াই দেখা যাবে আজ মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী দিনের সন্ধ্যায়। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায়।

হাই ভোল্টেজের ম্যাচটির আগে সোমবার (২৩ নভেম্বর) মিরপুর জাতীয় একাডেমি মাঠে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই দলের দুই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তামিম ইকবাল।

জেমকন খুলনার দলপতি মাহমুদউল্লাহ অবশ্য হিসেব কষেই কথা বললেন। সাকিব, ইমরুল, এনামুল বিজয় ও আল আমিন হোসেনের মতো অভিজ্ঞদের নিয়ে কাগজে কলমে টুর্নামেন্টের সেরা দল হওয়া সত্বেও মাঠের পারফরম্যান্সই তার কাছে মূখ্য। যদিও সতীর্থরা সেটা করে দেখাতে পারলে জয় আর অধরা থাকবে না বলেই তার বিশ্বাস।

‘কাগজে-কলমে হয়তো আমাদের দলকে অনেক শক্তিশালী মনে হচ্ছে। তবে আমি সবসময়ই একটা কথা বিশ্বাস করি যে মাঠের পারফরম্যান্সটা সবসময়ই মুখ্য থাকবে। আপনি যত বড় নামই থাকেন, যত ভালো ক্রিকেটারই হন। দিনশেষে আপনাকে মাঠে এটা প্রমাণ করতে হবে। তো সেক্ষেত্রে বলবো যে, অবশ্যই আমাদের প্রমাণের অনেক কিছু আছে। যেহেতু ঘরোয়া ক্রিকেটের প্লেয়ারদের মধ্যে আমাদের প্রতিযোগিতাটা। তো সেটা প্রমাণের লক্ষ্যেই আমরা মাঠে নামবো।’

ফরচুন বরিশালের ক্ষেত্রে বাস্তবতাটা ভিন্ন। খুলনার মতো তামিমের দলে এমন কোনো নাম নেই যারা প্রতিপক্ষের শিবিরে আতঙ্কের কারণ হতে পারেন। তবুও হাল ছাড়তে নারাজ বিদগ্ধ তামিম। যারাই আছেন তাদের নিয়েই শুরুটা রাঙাতে চাইছেন।

‘দেখেন, একটা যে জিনিস যেটা হলো আমাদের দলে হয়তো নামি দামি ওরকম প্লেয়ার নেই, তবে ক্রিকেটটাই এরকম একটা খেলা। যে দেখেন সবাই যদি কাগজে কলমে শক্তিশালী হয়ে ম্যাচ জিতে যেতো বা টুর্নামেন্ট জিতে যেতো তাহলে অন্য কথা ছিল। আমি নিশ্চিত যে প্লেয়ারগুলো আছে আমার, তারা সবাইই ক্যাপাবল। তারা কোনো না কোনো জায়গায় নিজেকে প্রমাণ অবশ্যই করেছে। আমার বিশ্বাস আছে যে তারা ভালো করবে। এটাই আশা করবো যে আমরা কালকের ম্যাচ টা ভালোভাবে শুরু করবো। কারণ, এক থেকে এগার সবাইই ম্যাচ জেতাতে সক্ষম।’

শেয়ার