যশোরে ফার্মেসি বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জেলা প্রশাসকের সমাধানের আশ্বাস

দুই ওষুধ ব্যবসায়ীকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নকল ওষুধ রাখার অভিযোগে শনিবার যশোরে দুই ওষুধ ব্যবসায়ীকে আটক করে রোববার কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। আর এ ঘটনাকে বেআইনি অভিযান ও ব্যবসায়ীদের হেনস্তা উল্লেখ করে যশোর কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতৃত্বে রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ফার্মেসি বন্ধ রাখা হয়। প্রতিবাদে শহরে মিছিল করে দড়াটানার হাসপাতাল চত্বর মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি যশোরের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন ব্যবসায়ীরা; করেন সংক্ষিপ্ত বৈঠক। এসময় প্রশাসন দুই ব্যবসায়ীকে জামিনে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতৃবৃন্দ বিকালে কর্মসূচি স্থগিত করে ফার্মেসি খুলে ওষুধ বেচাকেনা শুরু করেন। অবশ্য ফার্মেসি বন্ধ থাকায় এর আগে ওষুধ কিনতে না পেরে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
জানা যায়, গত শনিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ শহরের জেলরোড এলাকা থেকে কাশিমপুর সার্জিক্যাল অ্যান্ড মেডিসিন হাউজ থেকে ১৪৩ পিস মনটেয়ার-১০ ট্যাবলেটসহ দোকানের মালিক ইব্রাহিম সরদারকে আটক করে। এরপর মাইকপট্টি এলাকার জমজম ড্রাগ হাউজ থেকে ১০টি মনটেয়ার-১০ ট্যাবলেটসহ ফার্মেসির মালিক জহির উদ্দিনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি এগুলো নকল। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দিয়ে পরদিন রোববার কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে, বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি যশোরের সভাপতি আব্দুস শহীদ চাকলাদার পান্নু ও সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হামিদ চাকলাদার ইদুল বলেন, কোনো ফার্মেসিতে যদি নকল ও ভেজাল ওষুধ থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অথবা ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান পরিচালনা করবে। কিন্তু পুলিশ কিভাবে বুঝবে এটি নকল ওষুধ। কেননা আমরা কোম্পানির কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে সেগুলো বিক্রি করি। নকল হলে কোম্পানির নামে মামলা ও কোম্পানির প্রতিনিধিকে আইনের আওতায় নিতে হবে। কিন্তু পুলিশ সেটা না করে ওষুধ ব্যবসায়ীদের আটক করে কারাগারে প্রেরণ করেছে। এটা বেআইনি। ব্যবসায়ীদের হেনস্তা করতে করা হয়েছে। অবিলম্বে আটক দুজন ওষুধ ব্যবসায়ীর মুক্তি দাবি করেন এই দুই নেতা।

এদিকে, বিকালে জেলা প্রশাসকের সাথে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি যশোরের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ চাকলাদার ইদুল বলেন, ‘জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সাথে নেতৃবৃন্দের কথা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়েছেন, এবার থেকে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হবে। তাছাড়া আটক করা দু’জন ব্যবসায়ীকে জামিন করাসহ সার্বিক সহযোগিতা করবেন।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি আব্দুস শহীদ চাকলাদার পান্নু, কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হামিদ চাকলাদার ইদুল, সহসভাপতি রবিউল ইসলাম ও এসএম সিরাজুল ইসলাম, সদস্য প্রদীপ কুমার ঘোষ, শামীম আহম্মেদ রনি, গাওসুল আজম, জহুরুল হক লাজন, আবু সাঈদ, নব কুমার সাহা, হাসানুজ্জামান বাবলু, গোলাম মোসাব্বীর শান্তি, এবিএম আশিকুর রহমান, মোল্যা আরিফ হোসেন, মতিয়ার রহমান, আহসান কবীর নীপু ও হাফিজুর রহমান শিলু।

শেয়ার