দেড় ডজন মামলার আসামি যশোরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিবের আত্মসমর্পণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দেড় ডজন মামলার আসামি যশোরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিব আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। গতকাল রোববার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণের পর বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। ভাইপো রাকিব শহরের শংকরপুর সার গোডাউন আলতাফের মোড়ের কাজী তৌহিদের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া কয়লাপট্টির মশিউর রহমান খোকন ঢাকার ইগলু আইসক্রিম কোম্পানির যশোরের ডিলার। ষষ্ঠীতলার মাহবুব একই কোম্পানির ঝিকরগাছা উপজেলার ডিলার। বেশ কিছুদিন ধরে ব্যবসার সূত্রে দুইজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। যে কারণে আসামি মাহবুবের সহযোগী সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিব। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে ভাইপো রাকিবের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একদল সন্ত্রাসী কয়লাপট্টির খোকনের বাড়িতে এসে তার ছেলে জুয়েলকে খোঁজাখুঁজি করে। এসময় খোকন ও তার পরিবার সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পাশাপাশি তাদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না পেয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে তারা বাড়ি থেকে চলে যায়। একইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে খোকনের ছেলে জুয়েল প্রয়োজনীয় কাজ শেষে শংকরপুর আলতাফের মোড়ে ব্র্যাক স্কুলের সামনে দিয়ে আসার পথে ভাইপো রাকিবের নেতৃত্বে ওই সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এসময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন আসতে দেখে তার পকেটে থাকা সাড়ে ২৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনায় খোকনের স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে ভাইপো রাকিবসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশের এসআই মাসুদুর রহমান ওই সাতজনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সেই মামলায় ভাইপো রাকিব পলাতক ছিল। গতকাল পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিনের আবেদন করে। বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।
ভাইপো রাকিবের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক অন্তত দেড় ডজন মামলা রয়েছে। এই মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হলো, চাঁচড়া রায়পাড়ার তৈয়ব আলীর ছেলে সাকিব হোসেন, রায়পাড়া কয়লা পট্টির আক্কাস আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন, ষষ্ঠীতলার সেলিম হোসেনের ছেলে মাহাবুব হোসেন, আশ্রম রোড এলাকার কোমর উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান, বেজপাড়ার সিতাম উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে প্রশান্ত ও পুলেরহাট এলাকার আলী আকবরের ছেলে ফারুক হোসেন।

শেয়ার