মেঝেতে ‘এ’ প্লাস ‘আর’ লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি ॥ মেঝেতে ‘এ’ প্লাস ‘আর’ লিখে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কুলসুম আক্তার কুসুম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের অভয়নগরে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের প্রফেসরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত কুলসুম আক্তার ব্যবসায়ী এমতিয়াজ আবাবিল মোহাম্মদ ইয়াসিনের দ্বিতীয় স্ত্রী। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ইনজেকশন সিরিঞ্জ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ব্যবসায়ী এমতিয়াজ আবাবিল মোহাম্মদ ইয়াসিনের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা আক্তার রুমার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মিম (১৮) জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৭ টার সময় মা (কুসুম) ঢাকায় অবস্থানরত বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। রাত ৮টার সময় বাবা আমাকে মোবাইল করে বলেন, ‘তোমার মাকে বাঁচাও। এসময় প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙ্গে দেখি গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মার দেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলে আছে।’

মৃত কুসুমের এক চাচি জানান, নিহত কুলসুম আক্তারের কুসুমের সঙ্গে প্রায় ৬ বছর পূর্বে রাজধানী ঢাকার আব্দুল মালেকের ছেলে এমতিয়াজের বিয়ে হয়। এমতিয়াজের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা আক্তার রুমার মেয়ে মিম। রুমার সাথে বিচ্ছেদের পর এমতিয়াজ অভয়নগরে আসে এবং কুসুমকে বিয়ে করে। এরপর থেকে কুলসুম ও মিম প্রফেসরপাড়ায় সাবেক শিক্ষক মতিয়ার রহমানের বাড়ি ভাড়া করে বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে এমতিয়াজ তাঁর প্রথম স্ত্রী রুমার সাথে পুনরায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুললে এমতিয়াজ ও কুসুমের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এরই জের ধরে নিজের রক্ত দিয়ে এমতিয়াজের ‘এ’ এবং রুমার ‘আর’ লিখে সে আত্মহত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রার্প্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মিলন কুমার ম-ল জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তদন্ত চলছে। সম্ভবত মৃত গৃহবধূ তাঁর বাম হাতে ইনজেকশন সিরিঞ্জ ব্যবহার করে রক্ত বের করেন এবং ঘরের মেঝেতে ‘এ’ প্লাস ‘আর’ লিখেছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

শেয়ার