শরণখোলায় ফুসফুস ক্যান্সারে মেধাবী শিক্ষক দৃষ্টিহীন, সহযোগিতার আবেদন

শরনখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা ও বন্ধু…। ভুপেন হাজারিকার জীবনমুখি গানের মতো এখন বড়ই সহানুভূতির প্রয়োজন হয়ে উঠেছে বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের বাসিন্দা ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র মো. নাজমুল হক নজরুল’র (৪০) জীবনে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করলেও মরণব্যধি ক্যান্সার এখন তাকে পুরোপুরি গ্রাস করতে চাইছে।
নাজমুল জানান, চোখের সমস্যা নিয়ে ২০১৯ সালে তিনি ঢাকার একটি চক্ষু হাসপাতালে গেলে একাধিক টেস্ট রিপোর্টের পর চিকিৎসক জানান, তিনি ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত। যার প্রভাব শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় তার বাম চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেই থেকে এ পর্যন্ত নাজমুলকে চিকিৎসার জন্য ২০ থেকে ২৫ বার ঢাকায় আসা যাওয়া করতে হয়েছে। তাছাড়া ১২টি কেমোথেরাপি দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার পরিবারের। কিন্তু শত চেষ্টা করেও তার বাম চোখের আলো ধরে রাখা যায়নি। যার ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন নাজমুলসহ তার পরিবার। বর্তমানে তিনি ঢাকার ডেল্টা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট প্রফেসর ডা. কাজী মঞ্জুর কাদেরের তত্ত্বাবধায়নে আছেন। কিন্তু তার জীবন যুদ্ধের পথে অর্থনৈতিক সংকট এখন দেয়াল তুলে দাঁড়িয়েছে। নজমুলের বৃদ্ধা মা-নাছিমা বেগম বলেন, শুনেছি সন্তানের জন্য মায়ের দোয়া নাকি আল্লাহ কবুল করেন। আমার মনু (নাজমুলের) ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর থেকে দিন-রাত্রী নামাজের মধ্যে কতো যে আল্লাহর কাছে কান্না-কাটি করেছি। জানিনা আমার দোয়া তার দরবারে কবে কবুল হবে ? এছাড়া নাজমুলের পিতা মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, দেশের অনেক জায়গায় নাজমুলকে ডাক্তার দেখিয়েছি। আমার টাকা পয়সা না থাকার কারণে ছেলেটার চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে বসতভিটা টুকু বন্ধক রাখাসহ বহু টাকা ধার দেনা করেছি। এখন সর্বস্বান্ত হয়ে সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য কামনা করছি। তাদের সহযোগিতায় উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে আল্লাহ মরনব্যাধি ক্যান্সার হতে বাঁচাতে পারেন আমার মানিক নাজমুলকে। মেধাবী স্কুল শিক্ষক নাজমুল ২০০৯ সালে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি বর্তমানে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের ১৮নং- দক্ষিন রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) পদে কর্মরত। তাই ছেলেকে বাঁচাতে সরকারসহ সমাজের দানশীল ও স্ব-হৃদয়বান ব্যক্তি কাছে আর্থিক সহায়তা ও দোয়া চেয়েছেন শিক্ষক নাজমুলের পরিবার। সহয়তা পাঠানোর ঠিকানা – মো. নাজমুল হক নজরুল, জনতা ব্যাংক, শরনখোলা শাখা, বাগেরহাট। সঞ্চয় হিসাব নং-০১০০০৪৭৫১৭৭২৩, পার্সোনাল- বিকাশ নং-০১৯২০৬৩০৬৪০।

 

শেয়ার