যশোরে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় আ’লীগ নেতৃবৃন্দ
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে বঙ্গবন্ধুর পর তাঁর যোগ্য রাজনৈতিক উত্তরসুরিদেরও হত্যা করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা। একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ও অভিভাবক শূন্য করতে ৭৫ সালে জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা আর নেতৃত্ব শূন্য করতেই একই বছরের ৩ নভেম্বর জেলহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় চার নেতা স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে যশোর সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথের সভাপতিত্বে বক্তারা আরো বলেন, জাতীয় চার নেতার অন্যতম খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই পাকিস্তানের চর হিসেবে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর তাঁর যোগ্য রাজনৈতিক উত্তরসুরিদেরও হত্যা করা হয়, যেন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করেন। যার মাশুল জাতি আজো দিয়ে যাচ্ছে। মোশতাক-জিয়ারা যে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু করেছিলেন, তা আজও শেষ হয়নি। আজও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র¿ চলছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের তাই সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা এসময় জাতীয় ৪ নেতার সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন এবং এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানান। আলোচনা শেষে জাতীয় ৪ নেতার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।

দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা খন্দকার মাসুদুজ্জামান। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, মীর জহিরুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোৎ¯œা আরা মিলি, সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অশোক বোস, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা এস এম নিয়ামত উল্লাহ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হায়দার গণি খান পলাশ, মুক্তিযোদ্ধা একেএম খয়রাত হোসেন, অ্যাডভোকেট আলী রায়হান, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তাফা, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী দেলোয়ার হোসেন, কবিরুল আলম, জেলা শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি, নাসিমা আক্তার জলি, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এস এম ইউসুফ শাহিদ, সাবেক সদস্য খলিলুর রহমান, শাহিদুজ্জামান সেলিম, ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওলিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবলীগলনেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহীসহ যশোর পৌর ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার