টিকছে না কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মহাসড়ক

যশোরাঞ্চলের মহাসড়কে অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন
চলাচল নিয়ন্ত্রণে বসছে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের মহাসড়কগুলোতে ১৫ টন পণ্য বহনের নির্দেশ থাকলেও বেশিরভাগ ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানে ২০-৩০ টন বহন করা হচ্ছে। দ্বিগুণ ওজন বহন করায় আয়ুস্কালের আগেই যানবহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মহাসড়কগুলো। যশোর-খুলনা মহাসড়ক নির্মাণের কয়েকদিনে মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ফুলে-ফেপে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। ফলে মহাসড়কগুলোতে লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন (এক্সেল লোড কন্ট্রোল) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর সন্নিকটে এবং অভয়নগর নৌ-বন্দর এলাকায় লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কে মালামাল পরিবহন ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সভা ডাকে জেলা প্রশাসন। সভায় জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে যশোরের বিভিন্ন ট্রাক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভা ও সওজ যশোর কার্যালয় সূত্র মতে, যশোর-খুলনা মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু করা হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হয়। ৩২১ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে আট কিলোমিটার সড়ক ফুলে উঠে। এতে যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। জনসাধারণ ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন নি¤œমানের কাজ করার কারণে এমনটি হয়েছে। আর সওজ বিভাগ দাবি করেছে, তীব্র তাপ ও গাড়ির ওভারলোডের কারণে সড়ক আঁকাবাঁকা হয়ে ফুলে-ফেপে উঠছে। নতুন রাস্তার এই দুর্দশা নিয়ে জনসাধারণ ও স্থানীয়দের অভিযোগে প্রেক্ষিতে মন্ত্রাণালয়ের চাপের মুখে পড়ে যশোরের জেলা প্রশাসন ও যশোর সড়ক ও জনপথ (সওজ)। বিষয়টি যশোরের জেলা প্রশাসক মিটিংয়েও একাধিক বার স্বীকার করেছেন। এমনকি জবাবদিহিতা করা লাগছে।
এদিকে, দ্রুতই রাস্তাটি সংস্কার ও এমন সমস্যা যাতে না ঘটে এই জন্য মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কে এন-৭ এর সরকারি অনুমোদিত ও ওজন বহির্ভূত মালামাল পরিবহন ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সভা ডাকে জেলা প্রশাসন। সভায় যশোরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনা হয়। আলোচনায় কিভাবে এই সড়কে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় বেশিরভাগ নেতারা বলেন, যশোরের বেনাপোলে বন্দরে প্রবেশ দ্বারে যন্ত্রটি স্থাপন করলে বন্দরে যানজট বৃদ্ধি হবে পারে। এতে ভোগান্তিতে পড়বে নানা পণ্য ও যাত্রীবাহী বাহন। এজন্য এক্সেল লোড কন্ট্রোল বেনাপোল বন্দর সন্নিকটে বসানো যেতে পারে। সভায় যশোরের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, যশোর অঞ্চলে সড়কে ওভারলোডিং নিয়ন্ত্রণ করতে যশোরের বেনাপোল ও নওয়াপাড়ায় নৌ বন্দরে এক্সেল লোড কন্ট্রোল বসানো হবে। যশোর সওজের একটি প্রজেক্টের মধ্যে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বেনাপোলের প্রকল্পটি ইতোমধ্যে আনুমানিক ২০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজ শুরু করার লক্ষে ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন শেষ হয়েছে। চলতি মাস থেকেই বেনাপোলের কাজটি শুরু হবে। আর অন্যদিকে নওয়াপাড়া এলাকায় এক্সেল লোড কন্ট্রোলের প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায়। দুটি প্রকল্পটি শেষ হলে যশোরের আরো বিভিন্ন স্থানে এই প্রকল্প শুরু করা হবে।
গতকালের সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল হাসান, সওজ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, নওয়াপাড়া ট্রাক টার্মিনাল পরিবহন ইউনিয়নের সভাপতি আফছার মোল্লা, যশোর জেলা ট্রাক টার্মিনাল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম, জেলা কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রবিন অধিকারী বেচাসহ জেলার বিভিন্ন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার