কুষ্টিয়ায় ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল লোহাগড়া ও যশোরের ৫জনের

পাবনা মানসিক হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি ॥ মানসিক সমস্যা নিয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে প্রায় এক মাস ভর্তি ছিলেন যশোরের মেয়ে ও লোহাগড়ার গৃহবধূ আরবি খাতুন। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। স্বামী মফিজ উদ্দীন (৩৮) অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাদের ছেলে ইফাদ এবং আরবির ভাই আলীম হোসেন ও ইনসান আলী। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে তাদের অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষে আরবিসহ একই পরিবারের চারজনের প্রাণ গেছে। নিহত হয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সের চালক টিপু সুলতানও। তাদের লাশ প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। পরে স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আরবির মেজ ভাই ইনসান আলীকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার এক পা ভেঙে গেছে।
লোহাগড়ার মশাঘুনি গ্রামের বাসিন্দা ও নিহতদের প্রতিবেশী সোহাগ জানান, দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, লোহাগড়া পৌরসভার মশাঘুনি গ্রামের বাসিন্দা মোটরগ্যারেজ মিস্ত্রি মফিজ উদ্দিন (৪৩), তার স্ত্রী নাদিয়া আরবী (৩৮), ছেলে ইফাদ হাওলাদার (১৬), অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার দাসের ডাঙ্গা গ্রামের টিপু সুলতান (৩৮) এবং যশোরের বাসিন্দা নিহত মফিজের শ্যালক আলিম শেখ (৩৪)।
পুলিশ, হাসপাতাল ও পরিবার সূত্র জানায়, আরবি মানসিক রোগী ছিলেন। এক মাস ধরে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। লক্ষ্মীপুর এলাকায় সামনে থাকা একটি গাড়ি অতিক্রম করতে গিয়ে ডান দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন মারা যান। খবর পেয়ে সেখানে দ্রুত হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সদর থানা– পুলিশ যায়। তারা নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে নেয়। আহত ব্যক্তিকে একই হাসপাতালে ভর্তি করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইনসানের অস্ত্রোপচার করানো হয়।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নোয়া গাড়ি থেকে তৈরি করা অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশে দুমড়ে মুচড়ে পড়ে আছে। ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ির বাসিন্দা আফরোজা খাতুন বলেন, বিকট একটা শব্দ শুনে দৌড়ে রাস্তায় গিয়ে দেখতে পান, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর কয়েকজন রক্তে ভেজা অবস্থায় পড়ে আছেন। একজন কাতরাচ্ছিলেন। তাকে দ্রুত স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যান।
আরবির খালাতো ভাই স্বপন হোসেন বলেন, ‘পাবনা মানসিক হাসপাতাল থেকে আরবিকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরছিলেন। তিনটার দিকে খবর পাই, তাদের পাঁচজন মারা গেছে। আমরা পরিবারের কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে যাচ্ছি।’
কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুষ্টিয়া সার্কেল) আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্সটি ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে। বিএডিসির ট্রাকসহ অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাকের চালককে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সন্ধ্যায় হাসপাতালে যান কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সিরাজুল ইসলাম। তারা আহতের খোঁজখবর নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে, সন্ধ্যায় লোহাগড়ায় নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঘরে তালা ঝোলানো। কোন জনমানব নাই। চারিপাশে নিরবতা। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। লোহাগড়া থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। খুবই বেদনাদায়ক ঘটনা।

 

শেয়ার