বাঘারপাড়ার প্রাইভেটকার চালক রিপন খুন ॥ মারামারির মধ্যে বরকতুল্লাহ ছুরি দিয়ে হত্যা করে, শিঘ্রই চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাঘারপাড়ার প্রাইভেটকার চালক শওকত হোসেন রিপনকে (৩৫) উত্তেজনা বসত ছুরিকাঘাতে খুন করে বরকতুল্লাহকে। এমনই তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত সূত্রে। আর খুব শিঘ্রই বরকতুল্লাহ’র বিরুদ্ধে যশোর আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তোবারক হোসেন। গত ২৮ জুন দুপুরে প্রকাশ্যে বাঘারপাড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র প্রাইভেটকার স্ট্যান্ডে খুন হন চালক রিপন হোসেন। তিনি বাঘারপাড়া পৌর মহিরণ এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে।
নিহতের পিতা মনিরুল ইসলাম বলেছেন, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। একমাত্র ছেলেটিকে দিনে দুপুরে এক সন্ত্রাসীর হাতে জীবন দিতে হলো। নিহত রিপনেরও এক ছেলে এবং এক মেয়ে। তারা দুই ভাইবোনে অসহায় অবস্থায় লেখাপড়া করছে। ঘটনার দিন গত ২৮ জুন দুপুর দেড়টা। প্রতিদিনের ন্যায় রিপন সকালেই বাড়ি থেকে গাড়ি চালানোর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়। এদিন দুপুরে রিপন বাঘারপাড়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে প্রাইভেটকার স্ট্যান্ডের পাশে শিমুলের মোটরসাইকেল গ্যারেজে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ফেলু ও হাসিবুল ইসলাম নামে দুইজন মাইক্রো চালকের সাথে বরকতের তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে বরকতুল্লাহ তাদেরকে কিলঘুষি মারে। এসময় পাশে থাকা বাদীর ছেলে শুকত হোসেন রিপন এবং একই স্ট্যান্ডের অপর চালক শরিফুল, শফিয়ার, আনারুল ও মোস্তাক সেখানে এগিয়ে যায়। এরই মধ্যে বরকতের পকেটে থাকা ধারালো চাকু বের করে রিপনের বুকে বাম পাশে আঘাত করে। এসময় প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হলে রিপন মাটিতে পড়ে যায়। আর আশপাশে থাকা অন্য লোকজন বরকতুল্লাহকে ধরে রাখে। এরপর রিপনকে উদ্ধার করে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাক্ষ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। তাকে নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের পিতা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই দিনই বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। পরদিন ২৯ জুন আটক বরকতুল্লাহকে পুলিশ যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে। এসময় প্রাইভেটকার চালক শওকত হোসেন রিপনকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। আসামি বরকতুল্লাহ যশোর শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়ার মৃত মাহফুজুর রহমানের ছেলে।
বরকতুল্লাহ আদালতকে জানিয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রী পিংকিকে নিয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা শহরে গিয়েছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিজের মোটরসাইকেলটি মেরামতের জন্য বাঘারপাড়া মাইক্রো স্ট্যান্ডে শিমুলের গ্যারেজে যায়। সেখানে মেরামত করা নিয়ে গ্যারেজের মিস্ত্রি শিমুলের সাথে তার বাকবিত-া হওয়ায় তাকে কিলঘুষি মারে বরকত। এসময় পাশে থাকা শওকত হোসেন রিপনসহ কয়েকজন বরকতকে ঘিরে ফেলে। কিন্তু উত্তেজনা বসত পকেটে থাকা বরকত ছুরি বের করে রিপনের বুকে আঘাত করে। সে মাটিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা প্রথমে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। তদন্ত শেষে এই মামলায় বরকতের বিরুদ্ধে খুব শিঘ্রই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা বাঘার থানার এসআই তোবারক হোসেন।

শেয়ার