যশোর শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী সুমন ‘হত্যা’ শ্বশুর-শাশুড়িসহ সাত জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর শিক্ষা বোর্ডের অস্থায়ী কর্মচারী সুমন হোসেন হত্যার অভিযোগে সুমনের মা রেবেকা সুলতানা বাদী হয়ে শ্বশুর-শাশুড়িসহ সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। এই ব্যাপারে থানায় আর কোন মামলা হয়েছে কিনা হয়ে থাকলে কি অবস্থায় আছে সেই বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন বিচারক। আসামিরা হলো, যশোর শহরের খড়কি কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা নিহতের শ্বশুর রেজাউল করীম, শাশুড়ি শিরিনা বেগম, শ্যালক ঝন্টু ও মন্টু, ঝন্টুর স্ত্রী ডলি বেগম, মন্টুর স্ত্রী শিউলি বেগম ও নিহত সুমনের প্রবাসী স্ত্রী শায়লা শারমিন আশা।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেছেন, সুমন যশোর বোর্ডে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করতেন। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে সুমন যশোর শহরের খড়কি কলাবাগান এলাকার রেজাউল করীমের মেয়ে শায়লা শারমিন আশাকে বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েকদিনের মাথায় পার্লারের কাজের জন্য স্ত্রী আশা দুবাই যাওয়ার কথা চিন্তা করেন। সুমন আর্থিক অস্বচ্ছলতার কথা চিন্তা করে রাজি হন। এক পর্যায় সাড়ে ৪লাখ টাকা খরচ করে স্ত্রী আশাকে দুবাই পাঠান সুমন। আশা এখনো দুবাই রয়েছেন। আশা দুবাই যাওয়ার পর তার স্বামী সুমনের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ৩/৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা। কিছুদিন আগে সুমন জানতে পারেন আশা দুবাইয়ে বাংলাদেশী এক ছেলেকে বিয়ে করেছেন। এই বিষয়ে জানতে চাওয়ায় আসামিদের সাথে সুমনের উপর ক্ষীপ্ত হয়। এরপর থেকে তারা সুমনকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা ও সুযোগ খুঁজতে থাকে। তারই অংশ হিসেবে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে আসামিরা সুমনকে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। ওই দিন রাতে সুমনকে শারীরিক ভাবে নির্যতন করে হত্যার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালায়।
মামলায় বাদী আরো উল্লেখ করেন, ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বাড়ি থেকে সুমনের লাশ গ্রহন করেন। এসময় সুমনের গায়ে আঘাতের চিহ্ন, কাটা দাগ, হাত পা ভাঙ্গা, অন্ডকোষ গলিত অবস্থায় পাওয়া যায়। আশার ও তার নতুন স্বামীর প্ররোচনায় অন্য আসামিরা পরিকল্পিত ভাবে সুমনকে হত্যা করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন সুমনের রেবেকা সুলতানা।

 

শেয়ার