জাতীয় খেলা কাবাডি হারাতে বসেছে যশোরে !

 ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন ৩০ বছর সম্পাদক পদে থাকা শহিদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি এখন খুব বেশি চোখে পড়ে না। একসময় খেলাটি ছিলো সবচেয়ে জনপ্রিয়, প্রতিটি স্কুলে বার্ষিকক্রীড়া প্রতিযোগিতায় থাকতো কাবাডি খেলা, আন্তঃজেলা পর্যায়েও খেলাটি খেলতে দেখা যেত। কিন্তু কালক্রমে সারাদেশের মতো যশোরেও যেন হারিয়ে গেছে জাতীয় এই খেলাটি। শুধু নামমাত্র যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাবাডি পরিষদের আয়োজনে লিগ ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। লিগের খেলা বাদ দিলে কাবাডির দেখভাল করার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। কিন্ত দায়িত্বশীলদের অবহেলায় বর্তমানে কাবাডির চর্চা খুব বেশি চোখে পড়ে না।
জানা যায়, ১৯৮৬ সালে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ও কাবাডি পরিষদের আয়োজনে কাবাডি লিগের যাত্রা শুরু। কাবাডি পরিষদের নিজস্ব কোনো অফিস ও নির্দিষ্ট খেলার মাঠ নেই। ২০১৫-১৬ মৌসুমের পর লিগের কোনো খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ ৩২টি ক্লাব প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগ কাবাডি লিগের খেলায় অংশগ্রহণ করে থাকে বলে জানা গেছে। অথচ একসময় এ জেলার কয়েকজন খেলোয়াড় জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। খুব বেশি দিনের কথা নয় জাতীয় যুবদলে খেলেছেন যশোরের বেশকিছু খেলোয়াড়। শুধুমাত্র সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই জৌলুস নেই কাবাডির।
১৯৮৬ সাল থেকে যতবার কাবাডি পরিষদ গঠন করা হয়েছে (প্রায় ৩০ বছর) একবার বাদে প্রতিবছর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন শহিদুর রহমান। এবারও তার কাঁধেই সম্পাদকের দায়িত্ব পড়েছে। তিনি জানান, আমাদের অনেক ব্যর্থতা রয়েছে। এসব ব্যর্থতা কাটিয়ে আমরা সামনের দিনগুলোতে ভালোকিছু করার জন্য বদ্ধপরিকর। আশা আছে, নিয়মিত প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগ কাবাডি লিগ ও ডিএফএ নকআউট টুর্নামেন্ট করা। এছাড়া রেফারি ও কোর্সের ট্রেনিং করা।
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাবাডি পরিষদ গঠন করা হয়েছে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট। প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে পদাধিকার বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে। সভাপতি হয়েছেন আবুল বাশার সাইফুদ্দৌলা। সহসভাপতি হয়েছেন আখিরুজ্জামান সান্টু ও জুলহাস উদ্দীন। যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও আজগার আলী। সদস্য হয়েছেন সোহেল আল মামুন নিশাদ, সায়েদা বানু, ফেরদৌসী বেগম, মিনারা খন্দকার, আব্দুর রহিম কালু, রেহেনা সুলতানা রোজালিন, নিবাস হালদার, দেলোয়ার হোসেন দিলশান, গোলাম তসলিম শিমুল ও আবুল কালাম আজাদ।

শেয়ার