চুড়ামনকাটির ব্যবসায়ী মোস্তফা খুনের রহস্য উদঘাটন সুদের টাকা নিয়ে বিরোধে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সুদের দুই লাখ টাকার পরিবর্তে ১০ লাখ টাকা দিয়েও ঋণমুক্ত হতে পারেননি আব্দুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তার রোধে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্ধু শহিদুল ইসলামের সহযোগিতায় কাঠ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এমন কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর আগে জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শহিদুল ইসলামকে আটক করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন হোসাইন জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। আটক মামুন সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে এবং শহিদুল ইসলাম শাখারীগাতি গ্রামের মাজেদ মোল্যার ছেলে।
হত্যাকা-ে ব্যবহৃত চাকু, নিহতের মোটরসাইকেল, মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিষয়টি প্রেস ব্রিফিং করে জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দীন সিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল গোলাম রব্বানী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেডকোয়ার্টার অপু সারোয়ার, ডিএসবির ডিআইওয়ান মশিউর রহমান, ডিবির ওসি সোমেন দাস, এসআই কামরুজ্জামান, এসআই মফিজুল ইসলাম, এসআই শামিম হোসেন, এসআই নূর ইসলাম প্রমুখ।
পুলিশ বলেছেন, সরদার বাগডাঙ্গার কাঠ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা সুদে টাকা লাগাতেন। পাশাপাশি দাদনে কাঠ ক্রয় করতেন। আটক আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও একজন কাঠ ব্যবসায়ী। মামুনকে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা সুদে দিয়েছিলেন গোলাম মোস্তফা। ওই টাকার পরিবর্তে মামুন ১০ লক্ষাধিক টাকা দিয়েছেন গোলাম মোস্তফাকে। এরপরও আসল ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা পরিশোধ হয়নি বলে দাবি করেন গোলাম মোস্তফা। পাশাপাশি ব্যবসায়ীক বিরোধ চরম আকারে বেড়ে যায়। ফলে গোলাম মোস্তফাকে খুনের জন্য পরিকল্পনা করেন মামুন। গত ২৪ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে মামুনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে গোলাম মোস্তফাকে রিং করে বলা হয়েছে অনেক কাঠ এসেছে আপনি বাড়ি থেকে দ্রুত আসেন। মোস্তফা বাড়ি থেকে নিজের মোটরসাইকেলে প্রথমে চুড়ামনকাটি বাজারে আসেন। সেখান থেকে মামুন ও শহিদুল একই মোটরসাইকেলে মোস্তফাকে নিয়ে যান সলুয়া বাজারে। সেখানে একই সাথে ফেনসিডিল খাওয়া শুরু করলেও মোস্তফাকে বেশি করে খাওয়ানো হয়। এরপর আবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাঁজা কিনে নিয়ে তারা ঘোনা গ্রামের নদীর পাড়ে চিত্ত রঞ্জনের মেহগনি বাগানে যায়। এসময় মোস্তফাকে বেশি করে গাঁজা সেবন করিয়ে মামুনের কাছে থাকা চাকু দিয়ে বুকে আঘাত করে। কিন্তু মোস্তফা ঠেকানোর চেষ্টা করলে কিছু সময় ধস্তাধস্তি হয়। এরপর মোস্তফা কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে তার গলা কেটে হত্যা করে লাশ পানির মধ্যে কচুরিপনা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এরপর মোস্তফার মানিব্যাগে থাকা ৩০৪ টাকা নিয়ে মানিব্যাগ, চাকু পানির মধ্যে ফেলে দেয়া হয়।
পরদিন ২৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তার লাশ নদে ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে সংবাদ দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
পুলিশ সুপার আরো জানিয়েছেন, ঘটনার পর পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। বিভিন্ন সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে আব্দুল্লাহ ও সহিদুলকে আটক করে গত বুধবার। আব্দুল্লাহর বাড়ি থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নিহতের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত সুদের টাকা লেনদেন নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। এই হত্যাকান্ডে এখন পর্যন্ত দুইজনের সম্পৃক্ততার কথা জানতে পেরেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই নুর ইসলাম জানিয়েছেন, আটক দুই আসামি বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন হোসাইন ওই জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।

শেয়ার