যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ইমন খুন

৩ বছরেও হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ
‘মূল স্যুটার’ পেচোকে গ্রেপ্তার না করায় হতাশ স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ইমন খুনের তিন বছরেও হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এই হত্যাকা-ের মূল স্যুটার শহরের বেজপাড়ার পেচোকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি চার্জশিটে তাকে অভিযুক্তও করা হয়নি। এতে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়েও সংশয়ে রয়েছে নিহতের পরিবারে। এই পরিস্থিতির মধ্যে হত্যার তিন বছর পূর্তিতে ইমনের রূহের মাগফেরাত কামনা করেছেন তার পরিবার। একই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে যশোর শহরের বেজপাড়া গোলগুল্লার মোড়ে অবস্থানকালে একদল সন্ত্রাসী কাছে থেকে ইমনকে গুলি করে খুন করে। এ ঘটনার পরদিন ইমনের পিতা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আজমল হুদা বেজপাড়া মসজিদ বাড়ি রোডের মৃত মাহমুদ মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামান লিটন ওরফে ভাংড়ি লিটন এবং একই এলাকার আহম্মদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ। তদন্তকালে তিনি বারান্দীপাড়ার (রাঙ্গামাটি গ্যারেজ) এলাকার অম্বিকা বসু লেনের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে জামাল হোসেন ওরফে লম্বা সিপন এবং শংকরপুর সার গোডাউন এলাকার কাজী তৌহিদের ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাকিব ওরফে ভাইপো রাকিবকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার হওয়াদের কাছ থেকে ইমন হত্যার মূল কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া এ হত্যাকা-ে কারা জড়িত এবং ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
এরপর ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর এই মামলায় রেলগেট পশ্চিমপাড়ার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক দম্পতি রেখা-ফায়েকের দুই ছেলে সাগর ও রমজান আটক দেখান তদন্ত কর্মকর্তা। এর আগে ওই দুই সহোদর অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। এদেরকে তদন্ত কর্মকর্তা ইমন হত্যা মামলায় দুইদিনের রিমান্ডে নিয়েছিল। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকেও কোন ক্লু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
একে একে ভাংড়ি লিটন, আসাদ, লম্বা সিপন, সাগর-রমজান, বেজপাড়ার খুরশিদ এবং শংকরপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিবকে আটক করে। কিন্তু এই হত্যাকা-ের মূল স্যুটার বেজপাড়ার পেচোকে পুলিশ আটকও করতে পারেনি। এমনকি চার্জশিটে তাকে অভিযুক্তও করা হয়নি। ফলে মূল স্যুটারকে এই মামলার চার্জশিটে অভিযুক্ত না করায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়েও সংশয়ে রয়েছে নিহতের পরিবার।
গতকাল বুধবার ইমনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এদিন পরিবারের পক্ষ থেকে কোরআন খতম ও দোয়ার অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে নিহত ইমনের চাচা বাবুল আক্তার ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

শেয়ার