যশোরে আ’লীগ নেতা ও টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী নজরুল খুন ॥ হত্যার ৭ বছরেও হয়নি চার্জ গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের আওয়ামী লীগ নেতা ও টায়ার টিউব ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলামের সপ্তম হত্যাবার্ষিকী আজ। জেলা টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে এবং এলাকার মসজিদে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে হত্যার ৭ বছরে মামলার চার্জশিট দেওয়া হলেও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে চার্জ গঠন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে যশোর শহরের ঢাকা রোড বারান্দীপাড়া তালতলায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন পৌর এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম। এসময় বারান্দীপাড়া এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আনিছুর রহমান ফিঙে লিটনের ভাই সাইদুর রহমান ডিম রিপনের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনে নজরুল ইসলামের ব্যবসায়িক অফিসে হামলা চালানো হয়। ওই সন্ত্রাসীরা নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে নজরুল ইসলাম মাটিতে পড়ে গেলে আরো কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। নজরুল ইসলামকে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেলে নেয়ার পর তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় নিহতের ভাগ্নি জামাই জুয়েল হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলার অধিকাংশ আসামি ফিঙে লিটন পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়স্বজন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ বঙ্গের শীর্ষ সন্ত্রাসী আনিচুর রহমান ওরফে ফিঙে লিটনের পরিবারের ডজনখানেক সদস্য শহরের মণিহার, বারান্দীপাড়া, নীলগঞ্জ সাহাপাড়া, তাঁতীপাড়া ও বকচরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলায় ছিনতাই, ডাকাতি, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ অপকর্ম চালিয়ে আসছে। আর তাদেরকে চাঁদার টাকা দিতে কেউ অস্বীকার করলে তাকে খুন করাসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়। ফিঙে লিটনের ছোটভাই সাইদুর রহমান রিপন ওরফে ডিম রিপনের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত সন্ত্রাসী নিয়ে এলাকায় প্রতিদিন বোমার বিস্ফোরণ ও গুলি বর্ষণ করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের ইন্ধনে ওই সকল বোমা ও গুলির ঘটনা অন্যের ঘাড়ে চাপানোর ও চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। প্রতিদিন ওই এলাকায় শালিসের নামেও আদায় করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। ফিঙে লিটন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার ভাই ডিম রিপন ও ইনসান, ভগ্নিপতি মাসুদুর রহমান নান্নু, নান্নুর ভাই বাবু, লাভলু, ভগ্নিপতি সিরাজুল ইসলাম সিরা ও সেলিম পলাশ, সিরার দুই ছেলে সেতু ও জিতু, শ্যালক শামিম, খালাতো ভাই রফিকসহ অন্তত দুই ডজন সন্ত্রাসী বর্তমানে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের সকলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বোমা, চাঁদাবাজিসহ অনেক গুলো মামলা রয়েছে। কিন্তু তারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে এলাকায় থেকে অস্ত্রসহ চলাফেরা করায় স্থানীয় লোকজন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।
নজরুল ইসলাম হত্যা মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি দেয়া হলেও তদন্ত শেষে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে ডিবি পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। আর এই মামলায় বিভিন্ন সময়ে আটক এবং এজাহারনামীয়সহ মোট ১৩ আসামির অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছিল চার্জশিটে।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলো, শহরের নীলগঞ্জ শাহা পাড়ার ফিঙে লিটনের ভাই পূর্ব বারান্দি মোল্যা পাড়ার সাইদুর রহমার রিপন ওরফে ডিম রিপন, ভগ্নিপতি সেলিম পলাশ, আরেক ভগ্নিপতি এবিএম মাসুদুর রহমান নান্নু, নান্নুর ভাই মাহাফুজুর রহমান নান্নু ও বাবু, ভাগ্নে সেতু, এলাকার বুনো মিন্টু ও জনি বুনো, সমশের আলী টুকু ওরফে কসাই টুকু ওরফে টুকু চোর, বারান্দি পাড়া কদমতলার বাবু, সিটি কলেজ পাড়ার রশিদ বিহারি, পাউডার মোমিন ও শংকরপুর চাতালের মোড়ের শিপন ওরফে লম্বা শিপন। আজ নজরুল ইসলামের সপ্তম মৃত্যু বার্ষিকী। এদিন জেলা পুরাতন টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে এবং পারিবারিকভাবে বাড়িতে কোরআন খতম এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

শেয়ার