ইউএনও’র কাছে দেয়া গ্রাহকের অভিযোগের খবর লেখায় সাংবাদিকদের নামে দুটি মামলা

  • চুকনগরে সমিতির নামে প্রতারণা করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাত

চুকনগর প্রতিনিধি ॥ রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন ভুয়া সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে দেয়ার অভিযোগে গ্রাহকরা ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকার করায় সাংবাদিকদের নামে দুটি মামলা করেছেন সুদে মহাজন হিসেবে পরিচিত বিল্লাল হোসেন বাদশা নামে এক ব্যক্তি। পৃথক দুটি মামলায় সাংবাদিকদের সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ কারীদেরও আসামি করা হয়েছে।
১৩ অক্টোবর করা মামলার আসামিরা হলেন, দৈনিক সমাজের কথা পত্রিকার চুকনগর প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন, দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার চুকনগর প্রতিনিধি ও দৈনিক যশোর পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি গাজী আব্দুল কুদ্দুস, সমিতিতে টাকা দিয়ে প্রতারণা শিকার রানী বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান লিটন, যুবলীগ কর্মী রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল হালিম।
আর ১৫ অক্টোবর করা মামলার আসামিরা হলেন, দৈনিক সমাজের কথা পত্রিকার চুকনগর প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন, দৈনিক যশোর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুর ইসলাম, দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার চুকনগর প্রতিনিধি ও দৈনিক যশোর পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি গাজী আব্দুল কুদ্দুস এবং আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান লিটন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ‘খ’ অঞ্চলে পৃথক পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা দুটি অফিসার ইনচার্জ ডুমুরিয়া থানাকে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক সঠিক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রানী বেগম ও ৫ অক্টোবর ফরিদা বেগম নামে দুই মহিলা বি-লাইফ সঞ্চয় এ্যান্ড ঋণদান সমিতি এবং বাদশা ট্রেডার্স সমিতির নাম ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ২৭ গ্রাহক স্বাক্ষরিত এবং কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ৭২ গ্রাহক স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দৈনিক সময়ের খবর, দৈনিক নওয়াপাড়া, সংযোগ বাংলাদেশ, প্রতিদিনের কথা, দৈনিক যশোর ও আমার একুশ পত্রিকাসহ একাধিক অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের জের ধরেই পত্রিকার সম্পাদকসহ সাংদিকদের নামে ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গ্রাহকদের অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহানাজ বেগম তৎক্ষণাৎ উপজেলা সমবায় অফিসার এসএম সেলিম আক্তারকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। এদিকে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন মামলা দায়ের ও বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করার বিষয়ে গত ২১ অক্টোবর জীবনের নিরাপত্তা মামলা দুটি সঠিক তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের দাবি জানিয়ে দু’সাংবাদিক খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট প্রতাপ কুমার রায় বলেন, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হবে ? আর আমি তাকে ট্রেড লাইসেন্স দিব এটা আমার দ্বারা সম্ভব না। এতবড় বিবেকহীন মানুষের পরিচয় আমি দিতে পারব না।
এব্যাপারে উপজেলা সমবায় অফিসার এসএম সেলিম আক্তার বলেন, এটা যে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সমিতি সেটা প্রমাণিত। আমি তদন্তেও সেটা পেয়েছি। দুই একদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহানাজ বেগম বলেন, গ্রাহকরা অভিযোগ করা মাত্রই আমি সমবায় কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, আমরা খুলনা থেকে ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে সকল বিষয় তদন্ত করব এবং কোন কারণে সাংবাদিকদের নামে মামলা হল সেটাও তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এদিকে সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা করায় চুকনগর প্রেসক্লাবে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ তৎক্ষণাৎ জরুরি মিটিংয়ের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে চুকনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রুহুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক শংকর ঘোষ, সিনিয়র সাংবাদিক ও কবি ইব্রাহিম রেজা, সাংবাদিক গৌতম রাহা, কোষাদক্ষ ডাঃ এম এ জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ইমরান হুসাইন, প্রভাষক আব্দুল রাজ্জাক, গাজী শামীম হোসেন মিঠু, বিএম ফিরোজ এক বিবৃতি দিয়েছেন। এছাড়া রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ভূয়া সমিতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার