প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রকল্পে বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালক বদলি ও মামলার কারণে আটকে থাকা বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) একনেক সভায় তিনটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়ার সময় কিছু নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জানিয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগে। এর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে সচিব বা কর্মকর্তারা বদলি হয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, যেন এই বদলির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো গ্যাপ (বিরতি) না হয়। তার জন্য যারা থাকবেন এবং যারা নতুন আসবেন, তাদেরকে একটি ওরিয়েন্টেশন করে তাদেরকে অবহিত করা হয় বা কোনো গ্যাপ যেন তৈরি না হয়।’
এছাড়া মামলা-মোকদ্দমার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেন, মামলার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয়ে যায়। মামলা যখনই হবে, তখনই যেন উদ্যোগী মন্ত্রণালয় সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়, যেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কোনোভাবে ব্যাহত না হয়।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প: এলেঙ্গা- হাটিকামরুল- রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব বলেন, ‘এই প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইতিহাস হওয়ার মতো একটি বিষয় যে, তিনটি সরকারের প্রথম রাস্তা। প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, সেই সময় এটির ডিজাইন করা এবং সে সময় শুরু করা। এটি বাংলাদেশের একমাত্র রাস্তা, যেখানে ধীরগতির যানবাহনের একটি সাইড লেন আছে। আর যে নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন, সেটি হলো, রাস্তা তৈরির সময় খেয়াল রাখতে হবে, পানির চলাচল যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্রিজ, কালভার্ট ও পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে রাস্তা এদিক-ওদিক করতে হবে। বিশেষ করে বিল, হাওর-বাওর এগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ এগুলো আমাদের লাইফলাইন, এগুলো ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা করে, বিভিন্নভাবে পানি সরবরাহ করে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনা সচিব জানান, সিটি করপোরেশনগুলো বা স্থানীয় সরকারের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য ধীরে ধীরে কীভাবে, কোন প্রতিষ্ঠান কী করবে, কীভাবে অর্গানাইজেশন থাকবে—এটা পুরোটা রিভিজিট করতে হবে। যদিও ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের পুরো টাকাই সরকারের তহবিল থেকে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

শেয়ার