কাউন্সিলর পদ হারালেন হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান

সমাজের কথা ডেস্ক॥ সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনার জেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদ-ে দ-িত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর কাউন্সিলর পদ হারালেন সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ ইরফান সেলিম।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপেরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইরফানকে সাময়িক বরখাস্ত করে মঙ্গলবার রাতে আদেশ জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। দ-িত হওয়ায় আইন অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনে বলা হয়েছে, কোনো জনপ্রতিনিধি সাজাপ্রাপ্ত হলে তিনি বরখাস্ত হবেন।
নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধরের পর সোমবার হাজী সেলিমের বাড়ি তল্লাশি করে মদ ও ওয়াকিটকি পাওয়ায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ইরফানকে এক বছর কারাদ- দেয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ মঙ্গলবার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে তার দ-িত হওয়ার বিষয়ে রিপোর্ট পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে।”
এরপর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “অভিযোগটি আমাদের নথিভুক্ত হয়েছে, আমরা প্রসেস করছি। সম্ভবত আইন অনুযায়ী তাকে আজকেই (মঙ্গলবার) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করব।”
পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর ইরফানকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
আদেশে বলা হয়েছে, “যেহেতু তার বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর উপর হামলার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হয়েছে, তিনি বিদেশি মদ সেবন করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক এক বছর কারাদ-ে দ-িত হয়েছেন এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস দ-িত হয়ে কারাগারে আছেন, অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা ও ব্যবহারের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক ছয় মাস কারাদ-ে দ-িত হয়েছেন, তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার দায়ে আরও মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
“তার উক্ত কর্মকা- স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ এবং অসদাচরণের শামিল হওয়ায় তাকে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল।”
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হন ইরফান।
হাজী সেলিম ওই এলাকায়ই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। তিনিও একবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে এমপি হয়েছিলেন। ইরফানের শ্বশুর একরামুল করিম চৌধুরীও নোয়াখালী সদর আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। ইরফান বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মদিনা গ্রুপের পরিচালকদের একজন।
মহামারীর কারণে পৌরসভার ভোট পেছাবে না: ইসি
সমাজের কথা ডেস্ক॥ চলতি বছরের শেষের ও পরের বছরের শুরুর দিকে নির্ধারিত পৌরসভা নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণ দেখিয়ে ভোট পেছাতে অনেকের আবেদনের মধ্যে মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশের মোট ৩২৯টি পৌরসভার মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই ভোট করা প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি।

স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর ২০১৫ সালে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয় পৌরসভায়। সেবার ২০টি দল ভোটে অংশ নেয়।

আসন্ন ভোটকে সামনে রেখে ইসি গেল মাসে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে (প্রথম সভা, শপথ গ্রহণের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের সময় ইত্যাদি) পৌরসভার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চায়।
ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত তালিকাও কমিশনের কাছে এসেছে বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, সামনে পৌরভোটের জন্য প্রস্তুতি গোছানোর মধ্যে অনেক জনপ্রতিনিধি করোনাভাইরাসের কারণে ভোট না করার জন্য আবেদন, তদবির ও যোগাযোগ করছেন। সব বিবেচনা করে যথাসময়ে পৌর নির্বাচনে ইসির পদক্ষেপ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের মধ্যে ভোট নিয়ে অনীহা প্রকাশ করে বিভিন্ন পক্ষ থেকে অন্তত শ খানেক আবেদন জমা পড়েছে বলে ধারণা করছেন ইসি কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ সালের প্রথম দিকে অনেক পৌরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। এসব পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আিইন অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।

“করোনা মহামারীর কারণে পৌরসভা নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী পৌরসভাগুলোর সাধারণ নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”

 

শেয়ার