করোনারোধে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না ঝিনাইদহের মানুষ

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ ॥ করোনা ভাইরাসকে ভয় পাচ্ছে না ঝিনাইদহ জেলার সাধারন মানুষ। অন্যান্য রোগের মতই করোনাকে দেখছে তারা। যেকারণে স্বাস্থ্য বিধি মানা তো দূরের কথা, জেলার অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছেন না। আর গ্রামের হাট বাজারে আসা মানুষের মধ্যে নেই কোন সচেতনতা। সেখানকার হাতে গোনা দু’একজন বাদে কারোর মুখে দেখা যাচ্ছে না মাস্ক। জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে করোনা পরিস্থিতির এমন চিত্রই দেখা গেছে।
তবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিনিয়ত করোনা রোগের নমুনা সংগ্রহ, আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদান, অধিক আক্রান্তদের করোনা হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান, নিয়মিত মিটিংসহ অন্যান্য কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে।
অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ বাস্তবায়ন করার জন্য তারা কাজ করছেন। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষদের নিয়ে প্রশাসন করোনা পরিস্থিতি মোবাবেলায় একাধিক সভা করেছেন। সর্বশেষ শহরের বিভিন্ন দোকানে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের এই নির্দেশ উপেক্ষা করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তারা মানছেন না স্বাস্থ্য বিধি, মুখে পরছেন না মাস্ক। যার কারণে করোনা ঝুঁকি রয়েই গেছে।
জেলার অধিকাংশ হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, যানবাহনে স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে না। যেখানে সেখানে মানুষের ভীড়। আর এই ভীড়ের মধ্যে মাস্ক ছাড়াই চলাচল করছে মানুষজন। ইতিপূর্বে স্বাস্থ্য বিধি মানা ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার কারণে মানুষ কিছুটা হলেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা ও মাস্ক ব্যবহার করলেও বর্তমানে সে পরিবেশ আর নেই। আর প্রশাসনের পক্ষ থেকেই কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত জেলায় করোনা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ২০৪৬ জন। আর এ সময়ের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৮০৮৩ জনের। এরমধ্যে ফলাফল পাওয়া গেছে ৭৭৯৮ জনের। তার মধ্যে পজেটিভ হয়েছেন ২০৪৬ জন ও নেগেটিভ হয়েছেন ৫৭৫২ জন।
জেলায় করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৫ জন। এর মধ্যে সদরে ২৪ জন, কালীগঞ্জে ৫ জন, শৈলকুপায় ৫ জন ও কোটচাঁদপুরে ১জন। এছাড়া এ পর্যন্ত সদরে ১০২৯ জন, শৈলকুপায় ২৪৬ জন, হরিনাকুন্ডে ১১৩ জন, কালীগঞ্জে ৪৩৫ জন, কোটচাঁদপুরে ১২৮ জন ও মহেশপুরে ৯৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীসহ আক্রান্ত হয়েছেন ৯১ জন। জেলার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৫০ জন। এখন পর্যন্ত ( ২৬ অক্টোবর) ভর্তি আছেন ৮জন।

মাস্ক ব্যবহার না করে বাজারে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, জীবন জীবিকার তাগিদে আমাদের বাইরে বের হতে হচ্ছে। কিন্তু কেনা কাটার সময় অধিকাংশ স্থানে ভীড় থাকার কারণে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। কেন মাস্ক পরেননি এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, করোনার বিষয়ে আমরা সচেতন। কিন্তু ভুল করে মাস্ক বাড়িতে রেখে এসেছি। অনেককে আবার দোকান থেকে সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক কিনে মুখে পরার দৃশ্যও দেখা যায়।
কালীগঞ্জের বানুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, প্রথমদিকে মানুষ করোনাকে ভয় করেছে। তখন অধিকাংশ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হয়নি। কিন্তু কতদিন আর বাড়িতে বসে থাকবে। জীবন জীবীকার তাগিদে মানুষকে ছুটতে হচ্ছে। তিনি বাইরে বের হবার সময় মুখে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সাথে নিয়ে বের হন বলে দাবি করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবনা রানী সাহা জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি কর্মকা- অব্যাহত রয়েছে। করোনার দ্বিতীয় দফার ঢেউ সম্পর্কিত এক মিটিং জেলা পর্যায়ে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই রেজুলেশন পাওয়া গেলে উপজেলা পর্যায়ে আমরা মিটিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এছাড়া আমরা ইতিপূর্বে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের ডেকে মিটিং করেছি। সেখানে প্রত্যকটি দোকানে এই শ্লোগান সম্বলিত লিফলেট টানিয়ে দেয়ার কথা বলেছি। যারা মাস্ক পরবে না তাদেরকে কোন সেবা দেওয়া হবে না বলে ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানতে মোবাইল কোর্ট চলমান রয়েছে। পূজার কারণে একটু শিথিল ছিল। এখন থেকে এই কর্মকা- নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।
জেলা সিভিল সার্জন সেলিনা বেগমন জানান, করোনার প্রকোপ আগের থেকে এখন অনেক কম আছে। তবে শীতের সময় কি হবে সেটা এখই বুঝা যাচ্ছে না। এছাড়া আক্রান্ত রোগী যারা বাড়িতে আইসলোশনে আছেন তাদেরকে আমরা নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। দিক নির্দেশনা অনুযায়ি করোনা সম্পর্কিত সকল কর্মকা- আমরা আন্তরিকভাবে করছি।
তিনি আরো জানান, আমাদের পিপিই ও মাস্ক দেয়া হয়েছিল। সেগুলো ব্যবহার করেছি এবং কিছু আছে। আমরা আবারও চাহিদা পাঠিয়েছি।

শেয়ার