যুক্তরাষ্ট্র মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনতে অপারগ, স্বীকারোক্তি ট্রাম্প সহযোগীর

সমাজের কথা ডেস্ক॥ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চীফ অব স্টাফ মার্ক মেডৌস করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের অপারগতার স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছেন, তারা বরং এই রোগের প্রতিকারের দিকটিতেই বেশি মনোনিবেশ করছেন।

রোববার কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে প্রশাসন বেশিকিছু করতে সক্ষম নয় জানিয়ে মেডৌস সিএনএন এর ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে বলেন, “আমরা মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে যাব না। বরং আমরা টিকা, থেরাপি চিকিৎসা এবং রোগ প্রশমনের অন্যান্য ব্যবস্থা হাতের নাগালে রাখব।”

যুক্তরাষ্ট্র কেন এ মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনার পথে যাচ্ছে না? এ প্রশ্নের জাবাবে মেডৌস বলেন, ‘‘কারণ এই ভাইরাস ফ্লু এর মতোই মারাত্মক সংক্রামক। যদিও আমরা এটা নিয়ন্ত্রণের যথেষ্ট চেষ্টা করছি।”

“তবে ঠিক কী করলে এ রোগের প্রশমন হবে আমাদের এখন সেদিকে মনযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এটা হতে পারে ওষুধ বা টিকা বা কোনো ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আর কোনও মানুষ মারা যাবে না, আমাদের এখন সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের মাত্র নয় দিন আগে হু হু করে বাড়তে থাকা করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে মেডৌস এই কথা বললেন। এ থেকে মহামারী নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।

মহামারী সামলাতে ব্যর্থতার কারণে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগে থেকেই চাপে ছিলেন। জনগণের কাছে তার জনপ্রিয়তাও একারণে কমেছে।

আর এ পরিস্থিতির মধ্যেই মেডৌস বিস্ময়কর ভাবে প্রশাসনের অপারগতার কথা স্বীকার করে ফেলায় ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সুযোগ লুফে নিয়েছেন।

এক মন্তব্যে তিনি বলেছেন, “হোয়াইট হাউস এখন পরাজয়ের সাদা পতাকা ওড়াচ্ছে। মেডৌসের মন্তব্যই বলে দিচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকানদেরকে রক্ষা করার মৌলিক দায়িত্ব পালনে ক্ষ্যান্ত দিয়েছে।”

“মেডৌস যা বলেছেন, তা মুখ ফসকে বলেননি। বরং এই সংকটের শুরু থেকে ট্রাম্পের যে নীতি সবার কাছে পরিষ্কার ছিল তারই অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন,” বলেন বাইডেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও কয়েকদিন আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াসহ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের আরও বেশ কয়েকজন সে দফায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

এবার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের চিফ অব স্টাফ মার্ক শার্টসহ তার অন্তত পাঁচজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তারপরও কোয়ারেন্টিনে না থেকে পেন্স নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। যা নিয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক শিবির সমালোচনায় মেতেছে।

ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, ‘‘ট্রাম্প মহামারীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।”

মাঝে কিছুটা কমে এলেও যুক্তরাষ্ট্রে আবারও কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ছে। গত শনিবার দেশটিতে নতুন করে আরো ৮৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়। রোববার পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি।

সেখানে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩৯ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

তারপরও ট্রাম্প প্রশাসন এবং তার নির্বাচনী শিবির ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দেওয়া পরামর্শ অমান্য করছে। প্রায়ই তারা মাস্ক পারছে না বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ উপেক্ষা করছে।

শেয়ার