পাঁচদিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব সমাপ্ত চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দেবী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো করোনাকালের শারদীয় দুর্গোৎসব। সোমবার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নদী, পুকুর ও জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীরা এদিন চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। ফলে শেষ দিন বিজয়া দশমীতে মন্ডপগুলোয় ছিল বিষাদের ছাপ। দোলায় চেপে মর্তলোকে এসে দেবী এবার হাতিতে চড়ে কৈলাসে ফিরে গেলেন।
গতকাল শারদীয় দুর্গাপূজার দশমী বিহীত পূজা ও দর্পন বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সন্ধ্যা-আরাত্রিকের পর অনুষ্ঠিত হয় প্রতিমা বিসর্জন। তারপর ছিল শান্তি জল গ্রহণ। এছাড়া দশমীর দিন মন্ডপে-মন্ডপে সিঁদুর খেলা হয়। আর ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যার দিকে হয় প্রতিমা বিসর্জন। যশোর শহরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা লালদীঘিতে এসে নিরঞ্জন সম্পন্ন করেন। তবে করোনার সংক্রমণ এড়াতে অন্যবারের মতন এবার বিসর্জন অনুষ্ঠানে জনসমাগম ছিল অনেক কম। কোনরকম শোভাযাত্রা ছাড়াই দেবী প্রতিমার বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়।
এবছর শহরের লালদীঘির প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেশবপুর-৬ আসনের এমপি শাহীন চাকলাদার। এছাড়া নিরঞ্জন অনুষ্ঠান পরিদর্শনে আসেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মনিরুজ্জামানসহ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা। এসময় পূজা উদ্যাপন পরিষদের যশোর শাখার সভাপতি অসীম কুন্ডু, সহসভাপতি বিষ্ণুপদ সাহা, সাধারণ সম্পাদক যোগেশ চন্দ্র দত্ত, কোষাধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি দে, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি দুলাল সমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন ভাষ্করসহ পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ অক্টোবর পাঁচ দিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়। পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতায় মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করেন। আর গতকাল বিজয়া দশমীর দিনেও ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের ইতি টানা হয়।

শেয়ার