নবমী পূজায় মন্দির ও মন্ডপে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান আজ বিসর্জন ॥ দেবীদুর্গা ফিরে যাবেন কৈলাসে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন আজ বিজয়া দশমী। মর্ত্যলোক থেকে দেবী দুর্গা এদিন কৈলাসে ফিরে যাবেন। তাই বিদায় বেলায় সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের মনে বাজছে বিষাদের করুণ সুর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বছর ঘুরে দুর্গাপূজা এলেও মহামারির জন্য এবার সেভাবে কোন উৎসব পালন হয়নি। আর আজ দশমীর দিন দেবীর বিদায় লগ্নেও শুধুমাত্র পূজা-অর্চণা ছাড়া আর কোন আয়োজন নেই। করোনার সংক্রমণ এড়াতে এবার দেবী প্রতিমা বিসর্জনের কোন ধরণের শোভাযাত্রা হচ্ছে না। বিগত দিনের ধারবাহিকতায় শহরের লালদীঘিতে হবে না প্রতিমা নিরঞ্জন।
আজ সোমবার মহাদুর্গাদশমী। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে সকাল ৯টা ৩১ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপন ও দেবীদুর্গার দর্পণ নিরঞ্জনের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার। এদিন সকাল সাড়ে ছয়টায় দশমীর পূজা আরম্ভ হবে। এরপর পূজার সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন। এছাড়া সন্ধ্যা-আরাত্রিকের পর প্রতিমা বিসর্জন। তারপর শান্তি জল গ্রহণ। এদিকে উৎসবের চতুর্থ দিন গতকাল রোববার আনুষাঙ্গিক মাঙ্গলিক ধর্মীয় আচারানুষ্ঠানসহ দেবীদুর্গার মহানবমী পূজা সম্পন্ন হয়েছে। এদিন মন্দির ও পূজা মন্ডপ ঘুরে ভক্তরা দেবীর পায়ে অঞ্জলি দেন।
জানা গেছে, মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় সংক্রমণ এড়াতে এবার বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। নিয়মরক্ষার তাগিদে ধর্মীয় ও শাস্ত্রীয় সব রীতি মেনে শুধুমাত্র আচারানুষ্ঠান পালনের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজার ইতি টানা হচ্ছে। এবার কোন শোভাযাত্রা করে প্রতীমা বিসর্জন করা হচ্ছে না। এমনকি বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় এবছর যশোর লালদীঘিতে প্রতিমা নিরঞ্জনও হবে না।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ চন্দ্র দত্ত সাংবাদিকদের জানান, বৈশি^ক মহামারি করোন পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর ঐতিহ্যবাহী লালদীঘিতে বরাবরের মত নৌকায় করে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে না। পৌর এলাকার পূজা আয়োজক কমিটি তাদের প্রতিমা সুবিধামত পুকুর বা নদীতে নিজ দায়িত্বে শোভাযাত্রা ছাড়াই নিরঞ্জন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবের চতুর্থ দিন রোববার সকল মন্দির ও মন্ডপে ধর্মীয় ক্রিয়াদি পালনের মাধ্যমে দেবীর প্রতি ১০৮টি পদ্মফুল উৎসর্গ, অসুর শক্তি বিনাশ করে দেশবাসীর মঙ্গল কামনা এবং একইসাথে বৈশি^ক মহামারি করোনা থেকে মুক্তি পেতে হোমযজ্ঞ, অঞ্জলী প্রদানের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয় মহা দুর্গানবমী। ভক্তবৃন্দ পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তাদের দুর্গতিনাশীনী দেবী দুর্গার কমলচরণে অর্ঘ্য দেন।

শেয়ার