যশোর সদরের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন ঘিরে দুটি সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচন ঘিরে রূপদিয়ার নারকেলহাটে ও মুড়লী আমিন পেট্রোল পাম্পের সামনে দুই পক্ষের আলাদা সংঘর্ষের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। চাউলিয়া পূর্বপাড়ার হাশেম আলীর ছেলে মর্তুজার দায়ের করা মামলার আসামি হলো ১১ জন। এরা হলো, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের জিরাট গ্রামের বর্তমানে তফসীডাঙ্গা বিদ্যুৎ অফিসের পাশের বাসিন্দা মৃত কওছার ড্রাইভারের ছেলে রাজু আহমেদ (৩৩), চাউলিয়া পূর্বপাড়ার সোহরাব ওরফে সুরাফ গাজী ছেলে সাগর গাজী (২২), সিদ্দিক হোসেনের ছেলে সোহেল (২৫), গোপালপুর গ্রামের আজিজারের ছেলে পিন্টু (২৪), নরেন্দ্রপুর গ্রামের দবির হোসেনের ছেলে সুমন (২৪), শাখাঁরগাতি গ্রামের মোশারফের ছেলে হাসান (২৬), শেখ সিদ্দিকের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫), একই গ্রামের সোয়েব (২২), মথুরাপুর গ্রামের কাঞ্চনের ছেলে লালন ওরফে রিয়াজ (২২), গোপালপুর গ্রামের হাসানের ছেলে তন্ময় (২০) এবং পদ্মবিলা গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে রায়হান (২৪)। আর মুড়লী খাঁপাড়ার জনির স্ত্রী দোলা খাতুনের (২১) দায়ের করা মামলার আসামি হলো ৫ জন। আসামিরা হলো, চাউলিয়া গ্রামের মর্তুজা (২৬), জিরাট গ্রামের আকবরের ছেলে আরমান (২৫), কচুয়া ঘাটকান্দা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে নয়ন (২৭), মোকছেদের ছেলে রানা (২৪) এবং যশোর শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ার আল-আমিন (২৩)।
মর্তুজা এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা এলাকায় দাঙ্গাবাজ, চাঁদাবাজ, মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত। তারা বিভিন্ন লোকজনের কাছে চাঁদাদাবি করে। চাঁদা না দিলে মারপিট করে। মূলত এসবের প্রতিবাদ করায় আসামিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। তাকে খুন জখমের হুমকি দেয়। বিভিন্ন স্থানে মহড়া দেয়। গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে রূপদিয়া বাজারের নারকেলহাট নামক স্থানে তিনি একই এলাকার শাহীন আলম, সোহাগ সাহা, আরমান, রানা, রাজিব, নয়ন, হৃদয়সহ অন্যান্যদের সাথে বসে ছিলেন। এ সময় আসামিরা সেখানে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। তার প্যান্টের পকেট থেকে ৯৪ হাজার ৫শ’ টাকা কেড়ে নেয়। তার গলাই থাকা একভরি ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দুইটি মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেয়। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা ফের হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে দোলা খাতুন এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী জনিকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ১৮ অক্টোবর তার স্বামী সদর উপজেলার পরিষদের উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরজাহার ইসলাম নীরার প্রচার করছিল। তার সাথে ছিলেন জিরাট গ্রামের সোহেলে গাজী (৩২), সুনছেপপুরের রিয়াজ (২৩) ও মুড়লী এলাকার সানি (২৭)। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজারহাট আমিন পেট্রোল পাম্পের সামনে মণিরামপুর রোডের মোড়ে পৌঁছালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বাঁশের লাঠি, পাইপ ইত্যাদি দিয়ে তার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। তাকে বেধকড় মারপিট করে। তার পকেটে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। সাড়ে ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। তার সাথে থাকা কর্মীরা ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও মারপিটে জখম করে। তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা ফের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরে জনিকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শেয়ার