ঢাকুরিয়ায় জোড়া খুন ॥ আসামি মানিকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের মণিরামপুরের ঢাকুরিয়ায় জোড়া খুনের প্রধান আসামি জাহিদ হাসান মানিক (২৩) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম ওই জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। জাহিদ হাসান মানিক সদর উপজেলার চাউলিয়া গ্রামের চাঁদ মিয়ার ছেলে।
জোড়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মনিক এই হত্যাকা-ের বিষয়ে পুলিশকে যা বলেছিল একই বক্তব্য আদালতে পেশ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী সদর উপজেলার জয়ন্তা গ্রামের আক্তার গাজী ওরফে আকু গাজীর ছেলে বাদলের (২২) সাথে তার পূর্ব পরিচয় ছিল। বাদলের মোটরসাইকেলটি মাঝেমধ্যে ভাড়ায় নিতো মানিক। আর বাদলের প্রতিবেশী লোকমান ওরফে নিকমল মোল্লার ছেলে আহাদ (২৫)। আহাদ আর বাদল একসাথে ঘোরাফেরা করতো। বাদল বিবাহিত হয়েও পরীকায়ায় জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জেনে যায় আহাদ। এই নিয়ে মনে মনে বাদল ক্ষুব্ধ হয়। সে আহাদকে উচিৎ শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে মানিক মোবাইলে কল করে বাদলকে। সে সময় বাদল ও আহাদ জয়ন্তা বাজারে ক্যারাম খেলেছিল। মোবাইলে সংবাদ পেয়ে বাদল ও আহাদ মোরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। রূপদিয়া বটতলার কাছে পৌঁছালে মানিকের সাথে দেখা হয়। সে সময় বাদল কৌশলে আহাদকে চিনিয়ে দেয়। মোটরসাইকেলের চালকের আসনে বসে মানিক। আর আহাদ বসে মাঝে। বাদল ছিলো পেছনে। সদর উপজেলার বলরামপুর দিয়ে মণিরামপুরের ঢাকুরিয়ার উত্তরপাড়ায় পৌছালে বাদল একটি চাকু দিয়ে আহাদের গলাই আঘাত করে। আহাদ সে সময় চাকু ধরে ফেলে। আর চলন্ত মোটরসাইকেলে ধস্তাধস্তির হয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল পড়ে গেলে আহাদ চাকু কেড়ে নিয়ে বাদলকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। বাদল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহাদ ওই চাকু নিয়ে মানিককে তাড়া করে। কিন্তু কিছু দূর গিয়ে আহাদ মোটরসাইকেলের কাছে ফিরে আসে এবং ক্লান্ত শরীরে পড়ে যায় রাস্তার ওপর। মানিক ফিরে এসে ওই চাকু দিয়ে আহাদকে ছুরিকাঘাত করে। আহাদ সে সময় দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। মানিক সে সময় চাকুটি একটি ধানক্ষেতে এবং বাদলের মোবাইল ফোনটি একটি পুকুরের মধ্যে ফেলে পায়ে হেঁটে বাড়ি চলে যায়। পরে জানতে পারে বাদল ও আহাদ দুইজনই মারা গেছে। এসআই মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই ঘটনার সাথে মানিক ছাড়া আর কেউ ছিলো না। আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর আদালতের নির্দেশে মানিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

শেয়ার