কুমারী পূজার দিনে যশোরে মন্দির ও মণ্ডপগুলোয় ভক্তদের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আজ রোববার শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী পালন করবে সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীরা। গতকাল শনিবার মহাঅষ্টমীর দিন উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পূজা। যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে নবমী তিথিতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শাস্ত্র মতে, এদিন অষ্টমী ও নবমী তিথির সংযোগ-ক্ষণে সম্পন্ন হয় সন্ধিপূজা।
এদিকে আজ দুর্গোৎসবের চতুর্থ দিন মহা দুর্গানবমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা সম্পন্ন হবে। শাস্ত্র মতে, এদিন ১০৮টি পদ্মফুল ও প্রদীপে পূজিত হবেন দেবী। আর আগামী কাল বিজয়া দশমী। এদিন দুর্গা পূজার সমাপন, দর্পন ও প্রতিমা বিসর্জন।
সনাতন ধর্ম মতে, কুমারী হচ্ছে শুদ্ধতার প্রতীক। এই পূজার মাধ্যমে দেবী স্বয়ং মানুষের ভেতরে বিকশিত হন। শঙ্খ, ঘণ্টা আর উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে জাঁকজমকভাবে দুর্গা দেবীকে কুমারী রূপে অর্ঘ্য প্রদান করা হয়। নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর সৃষ্টিকর্তার আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে অষ্টমী পূজার পর সন্ধিপূজা শেষে বেলা এগারটায় রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এসময় মাতৃবন্দনায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এবছর কুমারী হিসেবে যশোরের মণিরামপুরের দেবব্রত ভট্টাচার্য্য ও শ্রাবন্তী ভট্টাচর্য্যরে ৫ বছরের মেয়ে ঐশানী ভট্টাচার্য্যকে পূজা করেছেন ভক্তরা।
শাস্ত্র মতে, ‘কালিকা’ নামে এবার মাতৃদেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। কুমারী পূজার সময় ভক্তকণ্ঠে ধ্বনিত হয় ত্রিলোক শ্রেষ্ঠা সুন্দরী, উৎকৃষ্ট বর্ণধারিনী হে বালিকা তুমি কল্যাণকর। তুমি প্রকাশকারিণী। মনোহরহাস্যযুক্তা, মহানন্দময়ী, মঙ্গলময়ী তুমি। তুমি পরমানন্দস্বরূপিণী জগৎ জননী- তোমাকে প্রণাম জানাই।
গতকাল আকাশ মেঘলা থাকলেও নতুন পোশাক পরে মন্দির ও ম-পগুলোতে ছোট-বড় সবার পদচারণা বৃদ্ধি পায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভক্তদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। মহা দুর্গাষ্টমীর শেষ সময়ে আর মহা দুর্গানবমীর শুরুর সন্ধিক্ষণে অসুর শক্তি বিনাশের লক্ষ্য নিয়ে এদিন সকাল ৭টা ৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত হয় সন্ধিপূজা। ধর্মীয় ক্রিয়াদী সম্পন্ন করে অসুর শক্তি বিনাশে ‘প্রতীকী বলি’ কার্যকর করা হয়।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে এই বলি কার্যক্রমে প্রধান কাপালিকের ভূমিকা পালন করেন সৌমিত্র গাঙ্গুলী। সহযোগী কাপালিকের ভূমিকায় ছিলেন শুভ লস্কর ও অমিত চক্রবর্তী। পুরোহিতের ভূমিকা পালন করেন প্রণয় চক্রবর্তী। সহায়ক পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন শক্তিপদ গাঙ্গুলী। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ। নারীকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখার বার্তা দিয়ে কুমারী পূজা সম্পন্ন হয়।
রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ সাংবাদিকদের জানান, প্রতিটি নারীর মধ্যে দেবী মা দুর্গা বিদ্যমান। ফলে নারীকে ভোগের নয়, শ্রদ্ধার দৃষ্টিতেও দেখতে হবে। তাহলে সব পাপাচার বন্ধ হবে।
অগামী কাল সকাল ৬ টা ৩০ মিনিটে দশমী পূজা আরম্ভ। সকাল ৯টা ৩১ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন। সন্ধ্যা-আরাত্রিকের পর প্রতিমা বিসর্জন ও পরে শান্তিজল গ্রহণ। প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এবার দেবী এসেছেন দোলায়, যাবেন হাতিতে চড়ে।

 

 

 

শেয়ার