অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত শিশু আল আমিনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকুড়া গ্রামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১৭ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে মারা যাওয়া শিশু আল-আমিনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় আল-আমিনের নামে কেনা জমিতে (নানা বাড়ি এলাকা) সদর উপজেলার এড়ান্দা গ্রামে তার দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত অফিসার এস আই হাফিজুর রহমান।
সূত্র জানায়, আল আমিনের বাবা বাঁকুড়ার মৃত খলিল সরদারের ছেলে দাউদ হাজী। মা একই গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে তামান্না খাতুন দাউদ হাজীর বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি দাউদ হাজী তামান্নাকে ধর্ষণ করে। কয়েকদিনের মাথায় মায়ের গর্ভে আসে আল আমিন। জন্মের পর আল আমিনের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেন দাউদ সরদার। বাধ্য হয়ে তামান্নার মা সাকিরন বিবি ২০১৫ সালে ২০ অক্টোবর দাউদ হাজীর বিরুদ্ধে যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। যার মামলা নং-২২৩১৭। আদালত আল আমিন ও দাউদ হাজীর ডিএনএ পরীক্ষা করে প্রমাণ পায় দাউদ হাজীই প্রকৃত পিতা। আদালতের নির্দেশে সন্তানের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয় দাউদ হাজী।
এক পর্যায়ে দাউদ ও তামান্নার মাঝে বিয়ে ও পরে তালাকও হয়। বিনিময় হয় মোটা অংকের টাকা। এদিকে গত সাত অক্টোবর নানীর সাথে আল-আমি বাঁকুড়া গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় রহস্যজনক ভাবে অগ্নিদগ্ধের শিকার হয় শিশু আল-আমিন। রাতেই তাকে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় রেফার করেন চিকিৎসক। ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিছুটা সুস্থ হলে ১৮ অক্টোবর শিশুটির নানী সকিরন নেছা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর শুক্রবার দুপুরে শিশুটি মারা যায়। তার করুণ মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

শেয়ার