সপ্তমী পূজায় যশোরে মন্ডপগুলোতে করোনা থেকে মুক্তিতে বিশেষ প্রার্থনা, আজ অষ্টমী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার গতকাল ছিলো মহাসপ্তমী। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৫টায় ধুনো, বেল-তুলসি আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দনসহ ১৬টি উপাচার দিয়ে দেবী দুর্গাকে পূজা করা হয়। এদিন ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়। সব পূজামন্ডপে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আশির্বাদ চেয়ে ভক্তরা অঞ্জলি প্রদান করেন। এরপর মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। যশোরের পূজা মন্ডপগুলোতে করোনা মহামারি থেকে মুক্তি এবং সবার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। আজ (শনিবার) স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে । এদিন মহাসপ্তমীর সকালে প্রথমেই চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পুরাণ মতে, মহাসপ্তমীতে ভক্তদের কল্যাণ ও শান্তির আশীষ নিয়ে পূজার পিঁড়িতে বসেন হিমালয় নন্দিনী দেবী দুর্গা। দেহ শুদ্ধি, অঙ্গ শুদ্ধি সেরে শুরু হয় পূজা অর্চনা। বেজে ওঠে ঢাক-ঢোল, কাঁসাসহ বিভিন্ন ধরনের বাদ্য-বাজনা। পূজামন্ডপগুলো স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে দেয়া হয় শঙ্খধ্বনি। তারপর সকালে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তমাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা সম্পন্ন হয়। এরপর দেবীর চরণে ভক্তরা অঞ্জলি নিবেদন করেন। সন্ধ্যায় আবারো পূজা অর্চনা ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় মহাসপ্তমীর পূজা।
যশোরে পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে মন্ডপগুলোতে দর্শনাথী সংখ্যা ছিলো খুবই কম। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেবী দুর্গার আশির্বাদ চেয়ে ভক্তরা অঞ্জলি প্রদান করেন। নিউ বেজপাড়া পূজামন্ডপে দর্শনাথী উৎপল মন্ডল বলেন, গত বছরের মতো মন্ডপে এবার করোনার কারণে আনন্দ করতে না পারলেও ঘরে বসে পরিবারে সাথে আড্ডা দিচ্ছি। আর সর্বক্ষণ দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করছি যাতে মহামারি করোনাভাইরাস থেকে পরিবারসহ বিশ্ববাসী রক্ষা পায়।’

শেয়ার