পরকীয়ার প্রতিবাদ ও যৌতুক দাবিতে মারপিট ॥ স্বামী ও তার প্রেমিকাসহ ৪ জনের নামে থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অন্য নারীর সাথে প্রেমের প্রতিবাদ ও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে স্ত্রীকে মারপিট করার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় স্বামী ও তার প্রেমিকাসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মণিরামপুরের চাপাকোনা গ্রামের পতন কুমার দে’র মেয়ে তমা রানী মিত্র যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় শুক্রবার সকালে এই মামলা করেন।
আসামিরা হলো, যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিঙ্গা গ্রামের বাসু দেব মিত্র, তার স্ত্রী রিনা মিত্র ও ছেলে চন্দন মিত্র এবং চন্দনের প্রেমিকা মণিরামপুরের কাশিমনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ইতি খাতুন।
তমা রানী মিত্র মামলায় উল্লেখ করেছেন, ১৪ বছর আগে আসামি চন্দনের সাথে তার সনাতন ধর্মীয় রিতীতে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও একটি মেয়ের জন্ম হয়। কিন্তু বাবা বাসু দেব ও মা রিনা মিত্রের কু-পরামর্শে স্ত্রী তমা রানী মিত্রের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্বামী চন্দন মিত্র। দুইটি সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে পিতার বাড়ি থেকে স্বামীর কাছে কিছু টাকা এনে দেন তমা রানী। এরই মধ্যে তার স্বামী চন্দন মিত্র কাশিমপুর গ্রামের ইতি খাতুনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিষয়টি জানতে পেরে ইতি খাতুনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করতে স্বামীকে অনুরোধ করেন তিনি। এতে স্ত্রীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা, মা এবং প্রেমিকা ইতির ইন্ধনে গত ৩ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তমাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে আটক করে রাখে চন্দন। ঘরের মধ্যে থেকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি তমা তার মামা কিশোর কুমার সিংহকে জানান। পরে তমার ছোট ভাই দেবাশীষ এসে তাকে উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সুস্থ হয়ে আবার স্বামীর বাড়ি ফিরে আসেন তমা রানী। কিন্তু যৌতুকের টাকা এনে না দেয়া পর্যন্ত স্ত্রী তমা রানীকে ভরণ পোষণ বন্ধ করে দেন এবং পৃথকভাবে সংসার করা শুরু করেন চন্দন। বিষয়টি পিতার বাড়ির লোকজনের সাথে আলোচনা করে তমা রানী থানায় এই মামলা করেছেন।

শেয়ার