দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসে মহাষষ্ঠী পার ॥ আজ সপ্তমী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মহাষষ্ঠীর দিন কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজোর মধ্য দিয়ে শুরু হলো দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় বন্দনা পূজা। আর এদিন সন্ধ্যায় ছিল দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। আবাহনের মাধ্যমে মূল মন্ডপে দেবী আসীন হওয়ার পর হয় দেবীর অধিবাস। এদিকে আজ শুক্রবার দুর্গা-মহাসপ্তমী। এদিন ভক্তরা মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমা দর্শন ও দেবীর চরণে অঞ্জলি দেবেন।
শাস্ত্র মতে, নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের পর শুরু হয় মহাসপ্তমীর পূজা। বাংলার দুর্গাপূজার একটি বিশিষ্ট অঙ্গ হলো এই নবপত্রিকা। আক্ষরিক অর্থে নবপত্রিকা হলো নয়টি গাছের পাতা। তবে বাস্তবিক অর্থে নবপত্রিকা নয়টি পাতা নয়, বরং নয়টি উদ্ভিদ। এগুলি হলো- কদলী বা রম্ভা (কলা), কচু, হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী, বিল্ব (বেল), দাড়িম্ব, (দাড়িম), অশোক, মান ও ধান। জানা যায়, একটি সপত্র কলাগাছের সঙ্গে অপর আটটি সমূল সপত্র উদ্ভিদ একত্র করে একজোড়া বেলসহ শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে লালপাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে ঘোমটা দেওয়া বধূর আকার দেওয়া হয়। তারপর তাতে সিঁদুর দিয়ে সপরিবার প্রতিমার ডান দিকে দাঁড় করিয়ে পূজো করা হয়। প্রচলিত ভাষায় নবপত্রিকার নাম কলাবউ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে গতকাল যশোর শহরের বিভিন্ন পূজা মন্দির ও মন্ডপে ভক্তদের আনাগোনা দেখা যায়। তবে করোনার সংক্রমণের কারণে এবার ঘটা করে সেভাবে উৎসব হচ্ছে না, শুধুমাত্র ধর্মীয় রীতি পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। জানা গেছে, পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পাঠানো নির্দেশনার মধ্যে এটি অন্যতম। অন্যান্য বছর পূজার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকলেও এবার তা হচ্ছে না। তাছাড়া আরতি প্রতিযোগিতা ও মেলা বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার দুর্গাপূজায় শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জনও হবে না।
রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশন যশোরের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য পঙ্কজ দে জানান, মহাষষ্ঠীর দিন সকালে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজোর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
এছাড়া এদিন সন্ধ্যায় শহরের বেজপাড়া গয়ারাম রোডে রায় বাড়ি দুর্গা মন্দিরে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা-অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ¦লের পাশাপাশি এসময় অতিথিদের উত্তোরীয় প্রদান ও মিষ্টিমুখ করানো হয়। এখানকার মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজক দীপক কুমার রায় জানান, এবার তের বছর পূর্ণ করল রায় বাড়িতে পূজার আয়োজন। তিনি বলেন, করোনায় স্বাস্থ্যবিধির অংশ হিসেবে মাস্ক পরে মন্ডপে আসার বিষয়টি নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রবেশ মুখে হাতে জীবাণুনাশক ছিটানোর বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে।

 

শেয়ার